পা খুঁজতে গিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন রাসেল

আপডেট : ০১ মে ২০১৮, ০৯:১৪
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বারবার পায়ের কাটা স্থানে হাত দিয়ে পা খুঁজছেন রাসেল সরকার। হাতটা পায়ের কাছে নিতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ডাক্তার রাসেলকে বিশ্রাম নিতে বলছেন। কথা বলতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু যতটুক সময় জেগে থাকে, ততক্ষণই কাঁদতে থাকেন। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা।
 
এদিকে এ ঘটনায় বিচার পাওয়া নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন রাসেলের পরিবার। তাদের অভিযোগ, এটি দুর্ঘটনা নয়, ইচ্ছা করে গ্রিনলাইনের চালক কবির হোসেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অথচ পুলিশ দায়সারা মামলা নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির যে ধারায় চালক অপরাধ করেছেন, সেই ধারায় মামলা নেয়নি। এটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যার চেষ্টায় মামলা হওয়া উচিত ছিল। শুধু দুর্ঘটনাজনিত ধারায় মামলা হওয়ায় চালক কবির পার পেয়ে যাবেন। তাই বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাসেলের বড় ভাই আরিফ সরকার।
 
গত শনিবার বিকালে কেরানীগঞ্জের এপিআর এনার্জি বিদ্যুৎ প্রজেক্টের একটি নির্মাণ সাইট থেকে ফেরার পথে ধোলাইপাড়ে রাসেল সরকারের প্রাইভেটকারকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয় গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-২৭৮৬)। তখন রাসেল গাড়ি থামিয়ে বাসের সামনে গিয়ে বাসচালককে নামতে বলেন। কিন্তু বাস চালক উল্টো বাস চালাতে শুরু করলে চাকায় চাপা পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হয় রাসেলের। বাসটি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী পিছু নিয়ে হাইকোর্টের পাশে কদম ফোয়ারার সামনে থেকে পুলিশের সহযোগিতায় বাস ও চালককে আটক করে। গত রবিবার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সকরা রাসেলের পা জোড়া লাগাতে অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু চার ঘণ্টার চেষ্টাতেও তারা পা জোড়া লাগাতে পারেননি।
 
রাসেলের ভাই আরিফ সরকার জানান, ঘুমের মধ্যেও মাঝে মধ্যে চিত্কার দিয়ে উঠে রাসেল। যতটুক সময় জেগে থাকে, ততক্ষণই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। আর বলে, আমার পা নেই। এখন আমার-স্ত্রী-সন্তানের কি হবে, ওদের কে দেখবে?। কীভাবে চলবো আমি। গাড়ি চালাবো কীভাবে? তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৭৯ ও ৩৩৮/ক ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। একমাত্র আসামি গ্রিনলাইনের চালক কবির হোসেন। রাসেলের পা হারানো ঘটনায় শুধু বাস চালকই নয়, সুপারভাইজারও দায়ী। বাস চালক কবিরকে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। তাকে রিমান্ডে আনা হয়নি। কিসের জোরে কবির মিয়া আইনের ছাড় পাচ্ছে। আমার ভাইয়ের পা হারিয়ে গেছে, আদালত অভিযুক্ত চালককে রিমান্ডের অনুমতি দিলেন না। এখন এই মামলায় বিচার পাওয়া নিয়ে আমাদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাহলে আইন কি গরিবের জন্য নয় - প্রশ্ন আরিফ সরকারের।
 
ইত্তেফাক/কেকে