শুল্কমুক্ত সুবিধায় কয়েকগুণ বেশি কাঁচামাল আমদানি
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
মেসার্স খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকা কাস্টমস অ্যান্ড বন্ড কমিশনারেটে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিমুখী পলিব্যাগ তৈরি করে থাকে। যা সাধারণত রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানায় ব্যবহূত হয়। প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রতিবছর কাঁচামাল আমদানির নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে।
কাঁচামাল হিসেবে পলি প্রোপাইল বা পলিথিন দানা বছরে ৭০০ টন পর্যন্ত আমদানি করতে পারে। কিন্তু দেখা গেছে জালিয়াতি করে প্রতিষ্ঠানটি ৭০০ টনের স্থলে ১৭০০ টন পর্যন্ত আনত। একই সাথে তার অন্য কাঁচামাল এইডিপিই-এর প্রাপ্যতার পরিমাণ ১১০ টন, তার স্থলে লিখে রেখেছে ৫১০ টন। ক্যালসিয়াম কার্বনেটের প্রাপ্যতা ৬১ টন, তার স্থলে লিখে রেখেছে ২৬১ টন। অনুরূপভাবে এলডিসিই ১৯০ টনের স্থলে ৫৯০ টন, মাস্টার ব্যাচ ৯ টনের স্থলে ৮৯ টন, প্রিন্টিং ইন্ক ৫ টনের স্থলে ২৫ টন এবং থিনার ৫ টনের স্থলে ২৫ টন লিখে রেখেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস প্রতিষ্ঠানটির জালিয়াতির বিষয়টি গত মঙ্গলবার উদঘাটন করে। ওই দিন একই সাথে চারটি কনসাইনমেন্ট আটক করা হয়। কাস্টমস দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি পরিমাণ কাঁচামাল মূলসনদপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়ে আসছিল।
শুধু এই প্রতিষ্ঠানটি নয়, রপ্তানিমুখী আরো কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রাপ্ত পণ্য জালিয়াতির মাধ্যমে বেশি পরিমাণে নিয়ে আসছে। একটি চক্র মূল কাগজপত্র জালিয়াতি করে তা চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রদর্শন করে পণ্য ছাড় করে নিয়ে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় আনা শিল্পের অতিরিক্ত কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের কাঁচামালে কিংবা প্রস্তুতকৃত পণ্যে বাজার ভরে রয়েছে। এভাবে এই চক্রটি প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে বলে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে ওই কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি মানা হচ্ছে না।
জানা যায়, ঢাকা বন্ড কমিশনারেট অফিসের মূল সনদের টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাঁচামাল বিনা শুল্কে নিয়ে আসছে খান ব্রাদার্স নামক ওই প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকার সেগুনবাগিচায় বন্ড কমিশনারেট অফিস থেকে ইস্যুকৃত সনদ জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম কাস্টমস জমা দিয়ে পণ্য ছাড় করে নিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে কেউ ধরতে পারেনি।
সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ে তার মূল প্রাপ্যতাপত্র যাচাই না করার কারণে কিংবা পরস্পরের যোগসাজশের কারণে জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েনি। অন্য একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন বন্ড কমিশনারেট ও কাস্টমসের কতিপয় অসাধু লোকজনের সহায়তায় অনেকগুলো জালিয়াত চক্র এই কাজে জড়িত।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ধরনের কাজের সাথে আরো কেউ জড়িত কি না খুঁজে বের করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
