দেশের সেরা পর্যটন স্পটগুলো

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০২

 

বাংলাদেশে রয়েছে প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যে ভরপুর নানা স্থান। দক্ষিণের টেকনাফ থেকে সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়া, এই ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের দেশের প্রতিটি জেলায় আছে দেখার মতো অনেক জায়গা। শহর থেকে একটু দূরে গেলেই চোখে পড়ে সবুজে আচ্ছাদিত মাঠঘাট, রাস্তা। চোখে পড়ে বিস্তৃত ধানখেত, জলরাশি। এসবের মাঝেই উপভোগ করার মতো সৌন্দর্য খুঁজে পান অনেকে। তবে প্রথাগত পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত বেশকিছু স্থান আছে, যে জায়গাগুলো দেখতে সারাবছর জুড়েই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। দেশের বাইরে থেকেও আসেন প্রচুর পর্যটক। এ ছাড়াও সাম্প্র্রতিককালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটার সাথে সাথে নতুন করে অনেক স্পট আলোচনায় এসেছে। তাই এসবের মধ্য থেকে সেরা স্পট বাছাই করা খুবই কঠিন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

এটি পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে এই সৈকতের অবস্থান। সমুদ্র, সামুদ্রিক মাছ আর সমুদ্রের অজস্র রত্নভাণ্ডারের সম্ভার নিয়ে এটি যে কারোর মন জয় করবে।

কুয়াকাটা

কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগরকন্যা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই সমুদ্রসৈকত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। কুয়াকাটার বিশেষত্ব হলো এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। সৈকত ও এর আশপাশের পুরো এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ। সেন্টমার্টিনকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়। এটি কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার উপকূল থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।

নীলগিরি

বান্দরবন জেলায় অবস্থিত পাহাড়ে কোলে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। এখান থেকে খুব সহজেই মেঘ ছোঁয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এখানে চারদিকের সবুজের মাঝে দাঁড়িয়ে নীল আকাশ ছুঁতে পারার অপার্থিক আনন্দ লাভ করেন পর্যটকেরা।

সুন্দরবন

দেশের একেবারে দক্ষিণে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত এ বনেই একমাত্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও এখানকার হরিণ, লবণাক্ত পানির কুমির বিখ্যাত। জোয়ার-ভাটার মধ্যে শ্বাসমূল তৈরি করে বেঁচে থাকা গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে যান অনেকে।

রাঙামাটি

রাঙামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়নের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। আশপাশের গ্রামগুলোতে বসবাস করা লুসাই, ত্রিপুরা ও পাংখয়া উপজাতিদের বসবাস সাজেক ভ্যালির রূপ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটিতে ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে শুরু করে প্রচুর ঝরনা ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

মহাস্থানগড়

ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পুরাকীর্তিটি বগুড়ায় অবস্থিত। পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল বর্তমান বগুড়া মহাস্থানগড়। মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন আমলেও বগুড়ার বিশেষ প্রশাসনিক গুরুত্ব ছিল। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে এটির অবস্থিত।

ষাটগম্বুজ মসজিদ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাটের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপত্যনিদর্শন ষাট গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি নির্মাণ করেন খান জাহান আলী। ধারণা করা হয় এটি ১৮ শতকে তৈরি। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো ষাট গম্বুজ মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের সম্মানে ভূষিত করে।

সোনারগাঁও

১৬১০ সাল পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল বঙ্গঅঞ্চলের শাসন কাজ চালানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জে এর অবস্থান। সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। শাসন কাজ পরিচালনার জন্য মুসলমান শাসকরা এখানে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করেন। পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় এসব স্থাপনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

টাঙ্গুয়ার হাওড়

টাঙ্গুয়ার হাওড় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে অবস্থিত। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওড় বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। সুন্দরবনের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। টাঙ্গুয়ার হাওরের কাছাকাছি আরও কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

বিছনাকান্দি

সিলেটের পর্যটন স্বর্গ। দেশের সীমান্তঘেরা পাথরের বিছানা ও মেঘালয় পাহাড় থেকে আসা ঠাণ্ডা পানি। পাশেই পাহাড়ি সবুজের সমারোহ। ছোট বড় পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা বিছানাকান্দিতে সৃষ্টি করেছে এক মনোরম পরিবেশ।

নিঝুম দ্বীপ

বাংলাদেশের দক্ষিণে পর্যটন কেন্দ্র নোয়াখালী হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরপুর। শুধু সৌন্দর্যেই নয় প্রাকৃতিক সম্পদেও রয়েছে এর বিশাল সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে জেগে ওঠা দ্বীপটির একদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ, অন্যদিকে ছুটে আসা হিমেল হাওয়া আর সবুজের সুবিশাল ক্যানভাস দ্বীপটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক রূপ বৈচিত্র্য।