কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্নস্থানে বজ্রপাতে তিনজন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ জন, আত্মহত্যায় ১ জন ও জানালায় মাথা আটকে পড়ে এক শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার যাত্রাপুর, কড়ইবাড়ী, রহিমপুর ও চাপিতলা গ্রামে এই ঘটনা গুলো ঘটে।
বজ্রপাতে নিহতরা হলেন, যাত্রাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (১৮) একই পাড়ার হামিদ মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া (১৪), আকবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে রুবেল মিয়া (২৭)। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত জীবন মিয়া (৩৫), সে চাপিতলা গ্রামের সরকার বাড়ির মৃত বারেক মিয়ার ছেলে। জানালায় মাথা আটকে মৃত্যু হয়েছে শিশু আবদুল্লাহ'র (২), সে যাত্রাপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার ইউসুফ মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া খেলার মাঠ সংলগ্ন বোরোর ফসলি জমিতে সেলিম, ইমনসহ বেশ কয়েকজন কিশোর দিনমজুর হিসেবে ধান কাটতে যায়। বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ইমন ও সেলিম দৌড়ে বাড়ি ফেরার পথে মাঠের মধ্যেই বজ্রপাতে পতিত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। একই সময়ে আকবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রুবেল মিয়া নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে বৃষ্টি পরবর্তী সময়ে চাপিতলা সরকার বাড়ী সংলগ্ন বিদ্যুতের একটি খুঁটি ঝড়ে হেলে পড়রে। হেলে পড়া ঘুটিটি সোজা করার সময় স্থানীয় ৮/৯ জন চেষ্টা করার সময় হঠাৎ একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জীবন মিয়া (৩৫) ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। এসময় ইসমত আলী (৪০) নামে একজন আহত হয়।
এদিকে একই সময় যাত্রাপুর পশ্চিমপাড়ার ইউসুফ মিয়ার দুই বছরের শিশুপুত্র আবদুল্লাহ তার বসত ঘরের বিছানায় খেলা করার সময় বিছানা সংলগ্ন জানালার কাঠের ফাকে মাথা আটকে মারা যায়।
গতকাল বুধবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে রহিমপুর সওদাগর পাড়ার মুক্তার হোসেনেরে ছেলে কাউছার (২৭) গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর আলম ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইত্তেফাক/এসএস
