পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে পড়ে যাওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ১৭:৪৭
বরিশালের মুলাদীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে নিহত হওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পৌর সদরের নয়াভাঙ্গনী নদীর পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ ব্যবসায়ী জামাল খানের লাশ উদ্ধার করে।
 
জামাল খান মুলাদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেম হোসেন খানের ছেলে। তিনি মুলাদী বন্দরে কাঠের ব্যবসা করতেন। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে পশ্চিম চরপত্তনী ভাঙ্গা গ্রামের মহসিন দর্জির বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থানের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশের অবহেলায় জামাল খানের মৃত্যু হয়েছে।
 
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে জামাল খান গাছ কেনার জন্য বেশ কিছু টাকা নিয়ে চরপত্তনীভাঙ্গা এলাকায় যান। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের কাছে খবর আসে পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের করিম দর্জির বাড়িতে জুয়া খেলা চলছে। মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার, এসআই ফকর উদ্দীন, এসআই মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং জুয়াড়ুদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠিচার্জের সময় বেশ কয়েকজন জুয়াড়ু নদীতে লাফিয়ে পড়ে। ওই সময় ব্যবসায়ী জামাল খান পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে একপর্যায়ে নদীতে পড়ে যান। নদীতে পড়ে যাওয়া সবাই পাড়ে উঠতে পারলেও জামাল খান নিখোঁজ হন।
 
স্থানীয়রা নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দুজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পরে পুলিশ ব্যবসায়ী নিখোঁজের বিষয়টি এড়িয়ে দুজনকে গ্রেফতারের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানায়। সময় ক্ষেপণের বিষয়টি বুঝতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন পুলিশকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেয়।
 
ঘটনার প্রায় ২৫ ঘণ্টা পরে নয়াভাঙ্গনী নদীতে ব্যবসায়ী জামাল খানের লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা মুলাদী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে লাশ উদ্ধার করে। এব্যাপারে মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার জানান, গতকাল বুধবার ঘটনার সময় অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই সময় জামাল খানের পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা ছিলো না।
 
অপরদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, পুলিশের অবহেলায়ই জামাল খানের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে পুলিশ এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ না করলে কিংবা নদীতে পড়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হয়তো জামাল খানকে বাঁচানো সম্ভব হতো। এঘটনায় মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জামাল খানের মৃত্যু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস