ফুলপুরে থমথমে অবস্থা, ভাঙচুর. দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন

আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ২১:৪০
ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার এক নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের আহবায়ক সাদেকুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার রাতের তাণ্ডবের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ সাদেকুর রহমানের সমর্থকরা  গোদারিয়া ও কাজিয়াকান্দা এলাকায় ৪ টি বাড়ি, ২টি দোকান ভাঙচুর করে। এ সময় প্রতিপক্ষের আজিজুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
 
বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে গোদারিয়া মোড়সহ কয়েকটি স্থানে ফুলপুর ও তারাকান্দা থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পৌর শহর।
 
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌর শহরের গোদারিয়া খাদ্য গুদামের সামনে কাউন্সিলর সাদেকুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তিনি বাসায় ফিরছিলেন। সাদেকুর রহমান চরপাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মৃত ফজলুল হকের পুত্র।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব-কলহ চলে আসছিল। তার জেরে এ হত্যাকাণ্ড।  অভিযোগের তীর স্থানীয় পৌর ছাত্রলীগের নেতার ওপর। তারাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় দুই প্রভাবশালী বড় বাড়ি ও পঞ্চায়েত বাড়ির মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছে।
 
বুধবার রাতেই নিহত সাদেকুর রহমানের লাশ ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়না তদন্তের জন্যময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পুলিশ পাহারায় তাঁর লাশ ময়না তদন্ত শেষে চরপাড়া নিজ বাড়িতে পৌঁছে।
 
এ সময় লাশের গাড়ি বহরে জেলা পরিষদ সদস্য আঃ খালেক, সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মত রাশেদ হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
 
বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাদেকুরের লাশ দাফন করা হয়। ফুলপুর পৌরসভা তিনদিনের শোক ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে।
 
ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মাহবুব আলম রাত পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় ইত্তেফাককে জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি, তাই মামলা হয়নি। তবে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু