তিন বছরেও শুরু হয়নি অনন্ত বিজয় হত্যার বিচার

আপডেট : ১২ মে ২০১৮, ১৯:৫৩
জঙ্গিদের ধারালো চাপাতির আঘাতে তিন বছর আগে নিজ বাসার কাছেই মুক্তমনা লেখক সিলেটে নগরীর অনন্ত বিজয় নিহত হয়। কিন্তু আজো তার হত্যার বিচার শুরু হয়নি।
 
২০১৫ সালের ১২ মে বাসার সামনে মুখোশধারীদের দ্বারা আক্রান্ত হন ৩২ বছরের যুবক সুদর্শন অনন্ত বিজয় দাশ। নগরীর সুবিদবাজারের নুরানি আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে সকাল ১০ টার দিকে। অনন্ত বিজয় দাশ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লেখা শেষে পূবালী ব্যাংকের জাউয়াবাজার শাখায় ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি যুক্তি নামে বিজ্ঞান বিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।এদিকে অনন্তের স্বজনরা বলেন, আমরা চাই প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের পরে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হক। যাতে এমন করে পৃথিবীর বুক থেকে আর কোন অনন্তকে চলে যেতে না হয়।
 
দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের একদিন পর অনন্তের বড় ভাই রত্মেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তা অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়।
 
সূত্র জানায়, ৯ মে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক ইদ্রিসসহ ১০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযুক্ত ছয়জন হলেন, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫), কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এবি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪), কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫) ও সিলেট নগরীর রিকাবী বাজার এলাকার সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)।  অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে আবুল, ফয়সাল ও হারুন পলাতক রয়েছেন।
 
গত বছরের ২০ জুন আদালত পলাতক তিনজনের সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। পরে ১৬ জুলাই অভিযোগ গঠনের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। এরই মধ্যে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাফিউর রহমান ফারাবীর জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। পরে অভিযোগ গঠনে নতুন তারিখ ধার্য হয় আগামী সোমবার। সিলেটের সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, অভিযোগ গঠন করা হলে মামলাটির আদালত স্থানান্তর হতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সোমবার অভিযোগ গঠন হলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস