সাক্ষাত্কার

মিলি চৌধুরীর পথ চলা!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৯

‘কবিতা আমাকে ঘিরে থাকে’ কথাটি বলেছেন বাংলাদেশের জন্যপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী, অনেকেই আবার তাকে চন্দনা বলে ডাকে। শুধু আবৃত্তি নয়, উপস্থাপক, বিতর্ক, সংবাদ পাঠক, অভিনয়েও অনেক জনপ্রিয় তিনি। তবে তিনি পেশাগত দিক থেকে একজন অ্যাডভোকেট। তিনি আবৃত্তি, অভিনয়, বিতর্ক ও উপস্থাপনায় কয়েকবার জাতীয় পদক পেয়েছেন। অভিনয়ে তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক, বিতর্কে ১২ বার চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়ে জাতীয় পুরস্কার এবং আবৃত্তিতে দুইবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মিলি চৌধুরী শেখ হাসিনা সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।

তার পথ চলা শুরু হয়েছিল আবৃত্তি দিয়ে। কবে তিনি আবৃত্তিতে আগ্রহী হলেন? এটা তার কাছ থেকেই জানা যাক, আমি তখন স্কুলে ভর্তিও হইনি। বাবার সঙ্গে ‘লিচু চোর’ কবিতাটি পড়তাম। তখন চট্টগ্রামের দৈনিক ‘আজাদী’ পত্রিকায় ‘আগামীদের আসর’ নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেই প্রতিযোগিতায় আমি ‘লিচু চোর’ কবিতাটি আবৃত্তি করে পুরস্কার পাই। তারপর থেকেই কবিতার প্রতি আমার আগ্রহ বারে পুরস্কারের লোভে, বাচ্চাদের যেমনটা হয় আর কি। যেখানেই আবৃত্তি করতাম পুরস্কার পেতাম।

১৯৯৩ সালে ‘আলোর পথের যাত্রা’ নামে মিলি চৌধুরীর একটি একক আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠান হয়, সেটা ছিল দর্শনীর বিনিময়ে। নারীদের মধ্য তিনিই প্রথম দর্শনীর বিনিময় একক আবৃত্তি সন্ধ্যা করেছেন। এর পরে ১৯৯৫ সালে তার প্রথম একটি কবিতার অডিও অ্যালবাম বের হয়, অ্যালবাম এর নাম ছিল ‘তোমার কাছে নত হয়েছি  কবিতা’। এ পর্যন্ত তিনি তিনটি বই প্রকাশ করেছেন শিশুদের জন্য। বইগুলো হল, আবৃত্তি করি চল, আবৃত্তির জানালা [আবৃত্তির জানালা দুটি খণ্ড]। ১৯৯৩ সাল থেকে ‘শৈশব’ নামে একটি আবৃত্তি সংগঠনে তিনি বাচ্চাদের আবৃত্তি শেখাচ্ছেন। ১৯৯৫ সালে নাট্যকলা বিষয়ে ভারত সরকারের বৃত্তি  লাভ করেন তিনি।

তার একক নাটক সম্পর্কের জানতে চাইলে তিনি বলেন, খ্যাতনামা অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদারের পর আমিই দ্বিতীয় একক নাটকে অভিনয় করেছি এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটের। সেটি ছিল নোবেল বিজয়ী নাট্যকার ‘দরিয়ে ফো’র ‘এ ওমেন অ্যালোন’।

বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রথম কণ্ঠস্বর স্বর্ণকষ্ঠী মিলি চৌধুরী বেড়ে ওঠা একটি বিশুদ্ধ সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক পরিমণ্ডললে। ছেলেবেলা থেকে বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত সংবাদপাঠক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নাট্যশিল্পী তিনি। চট্টগ্রামের প্রায় সকল গণজাগরণের মঞ্চে তিনি সবসময় সদা প্রস্তুত ছিলেন।

তার কাছে কোনো কাজটি করতে বেশি ভালো লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক কঠিন কাজ। আমার প্রোফেশনাল জায়গা থেকে আমি অ্যাডভোকেট [এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর, জজ কোর্ট]। তবে শুধু  বলব, আবৃত্তি আমাকে প্রচণ্ড টানে। আমার উপস্থাপনা করতে ভালো লাগে, খবর পড়তে ভালো লাগে। কিন্ু্ত আমার সকল কাজেই কবিতা থাকে। মানে কবিতা আমাকে ঘিরে থাকে।

চট্টগ্রামের প্রায় সকল মানুষের কাছে প্রিয় মুখ মিলি চৌধুরী। তিনি কবিতাকে ভালোবেসেছেন, ভালোবেসেছেন মানুষকে। অধিকারের লড়াইয়ে তিনি কখনওই পিছ পা হয়নি।