মানিকগঞ্জে গ্যাস সংকটে নাকাল পরিবহন ব্যবসা

আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ১৫:৩৮
মানিকগঞ্জে গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পরিবহন ব্যবসায়ীদের। গ্যাসচালিত পরিবহন ব্যবসায়ীদের গ্যাসের দাম ঠিকমতোই সিএনজি স্টেশনকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।কিন্তু সেই গ্যাসে পরিবহন যে দূরত্বে পৌঁছানোর কথা তার অর্ধেক দূরত্বেও পৌছাচ্ছে না। ফলে যাত্রাপথে পথিমধ্যে যাত্রীদের সঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে বাকবিতণ্ডা। প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে পরিবহনের যন্ত্রাংশ।  ঠিকমত গ্যাস না পাওয়াতে পরিবহনগুলো সময় মতো যাতায়াত করতে পারছে না। এতে পরিবহনে যাতায়াতকৃত অফিস, স্কুল, কলেজের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে পরিবহনগুলো যেতে না পেরে বাস স্টাফদেরও কষ্টের অন্ত নেই।
 
মানিকগঞ্জ ঢাকার নিকটবর্তী হলেও জেলাতে গ্যাসের ব্যাপক সংকট রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে মিটিং, মিছিল, আন্দোলন করেও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় নি। জেলার গ্যাসচালিত সকল পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কল কারখানায় গ্যাসের অভাব রয়েছে। দিনের পর দিন যেন এ সংকট বেড়েই চলছে। বাসা বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে কোনোরকমে দিনাতিপাত করলেও বিপাকে রয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাস পাম্পে অপেক্ষা করেও গ্যাসের দেখা মিলছে না। অপরদিকে প্রতিমাসে লোকসান গুনে সিএসজি স্টেশন চালানো হচ্ছে বলে জানান গ্যাস স্টেশন কর্মকর্তারা।
 
সরেজমিনে গত বুধবার দেখা গেছে, কয়েকটি সিএনজি পাম্পে সারিবদ্ধভাবে গ্যাস নেওয়ার জন্য পরিবহন রাখা হয়েছে। পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, মানিকগঞ্জে গ্যাসের তীব্র সংকট। গ্যাস নিতে প্রত্যেকদিন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়া তারা বলেন, তুলনামূলকভাবে মানিকগঞ্জে গ্যাসের চাপ অনেক কম থাকাতে গ্যাস নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকাতে প্রায় পরিবহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।
 
ঘিওরের সিএনজি চালক  আরজু  বলেন, 'আমি ঘিওরের বরংগাইল গ্যাস পাম্পে ৩ দিন ধরে গ্যাস পাচ্ছি না। তাই আজকে সদরের গুডলাক সিএনজি পাম্পে এসেছি। এখানে ১ ঘন্টা যাবৎ আছি। গ্যাসের গতি কম এজন্য গ্যাস নিতে দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের অভাব রয়েছে এজন্য আমরা খুবই সমস্যায় আছি। যাত্রাপথে পথিমধ্যে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডতায় জড়াতে হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবহনের যন্ত্রাংশ।
 
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলরত ভিলেজ লাইন পরিবহনের একজন বাস চালক বলেন, সারাদিন গাড়ি চালিয়ে রাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ে গ্যাস পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তারপরেও গ্যাসের দেখা পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে ধামরাই বা সাভার থেকে গ্যাস নিতে হয়। এতে করে যাত্রীদের গালিগালাজ শুনতে হয়। ঠিকমত গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির ট্রিপও কম হয়।
 
মুন্নু মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক বাপ্পি বলেন, টাকা দিয়ে গ্যাস নেব তারপরও  ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস নিতে এলে কম করে হলেও ১/২ ঘন্টা দেরি হবেই। 
 
মানিকগঞ্জ শহরের বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে গ্যাস না থাকলেও প্রতিমাসে কোম্পানির নির্ধারিত সাড়ে ৬শ টাকা বিল দিতে হচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। তিনি বলেন শহরের লাখো পরিবার এতে সমস্যায় পড়ছে।
 
তিতাস গ্যাস  ট্রান্সমিশন  অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড মানিকগঞ্জ জোনাল অফিসের তথ্যমতে, মানিকগঞ্জে ১৯টি সিএনজি স্টেশন, ৪২টি কল-কারখানা, ১২ হাজার ১০২টি আবাসিক সংযোগ, ক্যাপটিভ পাওয়ার (গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালানোর ব্যবস্থা) রয়েছে ৪১টি। এছাড়া গ্যাসে রুপান্তরিত ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ছোট গাড়ি এবং পাবলিক যানবাহন রয়েছে কয়েক হাজার।
 
সিএনজি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষসূত্রে জানা গেছে, ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জ জেলা কিন্তু  তারপরও গ্যাসের যথেষ্ট সংকট রয়েছে। এছাড়া গ্যাসের গতি অনেক কম।
 
ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী বলেন, সরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে মোটামুটি গ্যাস পাওয়া যায়। 
 
মানিকগঞ্জ তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোঃ রফিকুজ্জামান জানান, জেলায় গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হলেও গ্যাস লাইনের শেষ মাথায় হওয়ায় গ্যাসের সংকট হচ্ছে। এছাড়া আমাদের দায়িত্ব গ্যাস বিক্রি করা। ক্রেতা মানসম্মত সেবা পাচ্ছে কিনা দেখার দায়িত্ব আরপিজিসিএল ও বিএসটিআইয়ের।
 
তিনি বলেন, গ্যাসের সংকট পূরণ করতে খুব তাড়াতাড়ি নতুন করে একটি গ্যাস লাইন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু