মৌলভীবাজার-চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন সড়ক বেহাল

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৯

মৌলভীবাজার-শমশেরনগর-চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

জেলার সীমান্তবর্তী চাতলাপুর চেকপোস্ট থেকে শমশেরনগর হয়ে মৌলভীবাজার জেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার সড়ক যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট। ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মনু সেতুর কারণে ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহরের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছেন। সরেজমিনে সড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরে সড়কের স্থানে স্থানে পিচের কার্পেটিং উঠে তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি পরিমাণ অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সড়কে চলাচলকারী কলেজছাত্র সুমন আহমদ, ছাত্রী নার্গিস আক্তার, শিক্ষক জমশেদ আলী, মোটরসাইকেল আরোহী জয়নাল আবেদীন, ব্যবসায়ী রিপন, পল্লী চিকিত্সক পিন্টু দেবনাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কের সিএনজি অটোরিকশা বা যে কোনো গাড়িতে চলাচল করলে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। আর রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হয় মারাত্মক দুর্ভোগ। সিএনজি-অটোরিকশা চালক শিমুল আহমদ ও রতন বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিনষ্ট, আধাঘণ্টা সময়ের স্থলে এক ঘণ্টা সময় ব্যয় ছাড়াও ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহরের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী রমাপদ সেন, কাজী বদরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান বলেন, সড়কের করুণ অবস্থা ও চাতলাপুরে মনু সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। অচিরেই সড়ক ও সেতুর মেরামত কাজ না হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এই সড়কে আগেই প্রকল্প নেওয়া ছিল। তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজ বেড়ে গেছে। নিজেদের পক্ষ থেকে যেটুকু সম্ভব গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আঙ্গিকে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তিনি আরও বলেন, আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা যাবে।