দুর্যোগ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আরো সচেতন হতে হবে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় মানুষের সচেতনতা খুবই জরুরি। সচেতনতা না থাকার কারণেই বারবার অগ্নিকাণ্ডের মতো বড়ো দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা-জলোচ্ছ্বাস আর ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি সভ্যতার বিকাশজনিত দুর্ঘটনা-দুর্বিপাক কতটা ভয়াবহ আর করুণ হতে পারে- বনানী এবং চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে তা দেখেছে দেশের মানুষ। বারবার ঘটা এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে মানুষের; প্রশ্নের মুখে জীবনের নিরাপত্তা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সবাইকে নিরাপত্তা সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ যাতে না হয় সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিরাপত্তা সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় কাজ করেন, কি করেন, সেখানে নিরাপত্তা কতটুকু নিজের ভেতরে সেই সচেতনতাটা প্রত্যেকের মাঝে থাকতে হবে। এ ব্যাপারে নিজেদেরও সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্দেশনাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেমন করবে, জাতীয়ভাবেও এটা করতে হবে যে, যেকোনো দুর্যোগ এলে করণীয়টা কী, প্রচার দরকার। মানুষকে সচেতন করা দরকার। মানুষকে জানানো দরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে দুর্যোগ আসছে ঠিক, কিন্তু আমরা এটা সামাল দিচ্ছি। এতটুকু একটা দেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। পশ্চিমা দেশে যদি এরকম জনসংখ্যা হয়, তারা সামাল দিতে পারবে কি না আমার সন্দেহ আছে।’ তিনি বলেন, আধুনিকায়ন মানুষকে আরাম দেয়, সুবিধা দেয়। আবার মাঝে মাঝে ঝুঁকিও সৃষ্টি করে। সেই ঝুঁকিটা যেন কমে। বিদ্যুত্ ব্যবহারে, গ্যাস সিলিন্ডার এমনকি কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কিছুদিন আগে একটা বহুতল ভবনে আগুন লাগলো সেখানে যে বিষয়টা লক্ষণীয় ছিল সেখানে যারা কর্মরত ছিল তাদের মধ্যে কোনো সচেতনতা ছিল না। এমনকি সেখানে যে ফায়ার এক্সিট আছে সেটাও তারা জানে না। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেটাও দেখা দরকার। কারণ দুর্ঘটনারও প্রকৃতি বদলায়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরঞ্জাম প্রতিনিয়তই বাড়ানো এবং জনবলের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ৮শ’ বছরের বেশি পুরনো মধ্যযুগীয় স্থাপত্য নটর ডেম ক্যাথেড্রাল ধ্বংস হওয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুর্ঘটনার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দেশের ঘনবসতির কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অত্যন্ত ঘনবসতির দেশ। সেটা মাথায় রেখে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যাতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ৪১ সংস্থা ও বিভাগের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

আহমদ শরীফের ৩৫ লক্ষ টাকার অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি অভিনেতা আহমদ শরীফকে ৩৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। আহমদ শরীফ ও তার স্ত্রীর চিকিত্সার জন্য এই অনুদান দিয়েছেন তিনি। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন আহমদ শরীফ।