দুই পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাত মানুষ ঘিরে ধরে দুই পায়ে দাঁড়াতে না পারা, কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে গড়িয়ে পড়া এক মানুষকে। ভয়ের তীব্রতায় হিম হয়ে যাওয়া শরীরের ভেতর দুই হাত আর দুই পা-কে টেনে নিতে চায়, দুই হাত আর দুই পা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারলেও হিমভাব তা হতে দিল না। এমনকি দাঁত আর নখের আঁচড়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হতে থাকা শরীর, শরীরের ভেতর থেকে বেরিয়ে পড়া নাড়ি-ভুঁড়ি-রক্ত-হাড় লুটিয়ে পড়া জায়গাটাতে জীবনের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে দিতে তাপবিজ্ঞানের সূত্রমতো তাপ হারিয়ে হিম হয়। হতে থাকে।
দুই পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাত মানুষ চার পেয়ে নেকড়ের মতো আঁচড়ে-কামড়ে ছিন্নভিন্ন করা শরীরটাকে টুকরো করে ফেলে, তারপর মুখে নিয়ে কচ্কচ্ করে চিবোয়, গিলে ফেলে, হাড্ডি কামড়ে ধরে অনুভব করে শীর্ষ অনুভূতির স্বাদ। সবশেষে জিভ দিয়ে চেটে ফেলে রক্ত। সেই এক মানুষ তখন আর থাকে না কোথাও। মুছে যায় সব চিহ্ন, জীবনের, এমনকি মানবতারও।
যন্ত্র-প্রযুক্তি নেকড়ের স্নায়ুর নকশা ‘কপি’ করে সাত মানুষের স্নায়ুতে ‘পেস্ট’ করেছিল। নেকড়ের মতোই আঁচড়ে-কামড়ে-গিলে-চেটে সাফ করে ফেলে ঘটনা। এরপর সাত মানুষের মস্তিষ্কের সবক’টা স্নায়ু অবমুক্ত করা হয় নেকড়ে-স্নায়ু থেকে। আবারও মানুষের স্নায়ু নিয়ে তারা দুই পায়ে হেঁটে চলে যায় পথ দিয়ে। ঢেঁকুর কেন ওঠে, বুঝে উঠতে না পারলেও ভরা পেটে এক কাপ চা হলে মন্দ হতো না ভেবে হৈহৈ করে ওঠে। বুনো প্রকৃতির নেকড়ের দল চাঁদের আলোয় ডেকে ওঠে যেন মানুষের সভ্যতায়।
