জলাবদ্ধতা: চার নদী ও ৪৩ খাল উদ্ধারে মিলবে মুক্তি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৮, ২০:১৭
রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য খাল-নদী দখল ও ভরাটকে দায়ী করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা মনে করেন, খাল-নদী উদ্ধার করতে না পারলে নগরীর জলাবদ্ধতার নিরসন সম্ভব নয়। কিন্তু দখলদাররা এতই শক্তিশালী যে এগুলো উদ্ধার করতে গেলে সরকারেরই বিপাকে পড়ার আশঙ্কা আছে। কাজেই সেনাবাহিনীকে খাল-নদী দখলমুক্ত করার দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা। 
 
রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। 
 
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ঢাকাকে দেশের অর্থনীতিসহ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে। এ জন্যই জলাবদ্ধতার মতো অনেক ভয়াবহ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নদী-খালের দখলদাররা এতই প্রভাবশালী যে, এগুলো দখলমুক্ত করতে গেলে সরকারেরই পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অবস্থা হতে পারে। ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে হলে সরকারকে শক্ত  পদক্ষেপ নিতে হবে।  
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র-২ জামাল মোস্তফা বলেন, ঢাকার পানি কোথায় সরবে? আমার জীবনে দেখিনি ঢাকার নদীগুলো ড্রেজিং করতে। তুরাগ, বালু দখলদারদের কবলে। ৭০-৭৫টি খালের চিহ্নই পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুলো দখলদারদের কবলে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ঢাকার চারপাশের নদী ও ৪৩ খালকে ড্রেজিং করে প্রবাহমান করতে হবে। এই দায়িত্ব দিতে হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। 
 
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিপ-এর নির্বাহী পরিচালক ফজলুল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকাকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন কাজ হওয়াতে ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়ছে। ফলে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অরলা মারফি বলেন, ঢাকার জনসংখ্যা এখন ১ কোটি ৮০ লাখ। প্রতিবছর ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই সমস্যার লাগাম টেনে ধরার এখনই সময়। 
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, নদী ও খালের দখলদারিত্ব দেখভালের দায়িত্ব যাদের, তারা সঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালন করছে না। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভারে ঢাকা তার সক্ষমতা হারিয়েছে। ৭০ লাখের উপরের জনসংখ্যার শহরে বিনিয়োগের আউটপুট কম। তারপরও এই শহরে বড় বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার পরিচালক একেএম সহিদ উদ্দিন বলেন, ১২-১৫ ভাগ জলাধারের জায়গায় ঢাকায় আছে ২ ভাগ। এ অবস্থায় পানি নিষ্কাশন কাজ খুবই দুরূহ। তবে ঢাকা ওয়াসা রুটিন কাজের পাশাপাশি মেগা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে। 
 
এছাড়া আলোচনায় আরও অংশ নেন ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন, ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, ডিএসসিসির কাউন্সিলর সুরাইয়া বেগম, ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার তৌফিক আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ।
  
অনুষ্ঠান শেষে জলাবদ্ধতা বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির জন্য সিপ-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ১১ জন সাংবাদিককে ফেলোশিপ দেয়া হয়। ফেলোদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ফজলে হোসেন বাদশা।
 
ইত্তেফাক/এমআই