স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন স্বামী

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০১:১৫

রাজধানী মুগদার ব্যাংক কলোনির বাসায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের মামলায় স্বামী কমল হোসেন (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামির স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. মিল্লাত হোসেন জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আশরাফ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বুধবার রাজধানীর দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনির ১/৩৯ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় স্ত্রী হাসি বেগমকে কমল হোসেন গলা টিপে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ হত্যাকাণ্ডের আলামত মুছে ফেলতে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় কমল হোসেন।

পুলিশ জানায়, হাসি ও কমল দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। হাসির প্রথম ঘরে শুভ নামে ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় শুভকে তাদের ঘরে রাখার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের পর শুভ’র থাকা না থাকা নিয়ে প্রায়ই তাদের দাম্পত্য কলহ হতো। হাসি তার প্রথম স্বামী সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই দুইটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। এসব ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার হাসির প্রথম ঘরের সন্তান শুভকে শরীয়তপুরে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দেন। বুধবার ভোরে এ নিয়েই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ হয়। এরপরই কমল গলা টিপে হাসিকে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রান্নাঘর থেকে ম্যাচ এনে হাসির পরনে সালোয়ারের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার দুই পা পুড়ে যায়। এছাড়া পরনে কামিজে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তিনি পাশের কক্ষে থাকা হাসির বাবা শেখ আলতাফ ঢালী ও বড় বোন আলপনা আক্তারকে বলেন যে হাসি শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছে।