রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় শিশু মাহফুজুর রহমান ওলি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাসেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহনপুর থানার এস আই আব্দুল ওহাব আলীর নেতৃত্বে পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলা শিশু মাহফুজুর রহমানকে ওলি হত্যা মামলায় ভগ্নিপতি সাহেব আলী ও তার সহযোগী মুকুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে একই মামলায় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অপর আসামি রাসেলের সাজা কমিয়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ঘটনার সময় থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাসেল পলাতক ছিল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার আব্দুর রবের ৮ বছরের ছেলে মাহফুজুর রহমান ওলি ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাতেই অলির বাবা আব্দুর রব থানায় মামলা করেন। পরদিন বেড়াবাড়ি গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ভুট্টাক্ষেতে থেকে ওলির লাশ উদ্ধার করে র্যাব ও পুলিশ। কয়েকদিন পর র্যাব ও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।
আসামি রাসেল মাহফুজুর রহমানকে বেড়ানোর কথা বলে স্কুল থেকে সাইকেল করে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় সাহেব আলী মুকুল হোসেন ও রাসেলকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাহেব আলী তার শ্বশুরের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করতে শ্যালককে হত্যা করে। আলোচিত এ মামলায় ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি রায় দেন রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সাহেব আলী ও মুকুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড এবং রাসেলকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। তবে একই মামলায় যাবজ্জীবন অপর আসামি রাসেলের সাজা কমিয়ে ১৪ বছর ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোহনপুর থানার ওসি তদন্ত আফজাল হোসেন বলেন, ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী রাসেলকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
