নৃসংশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার মানববন্ধন করেছে।
গত ৫ জুন সন্ধ্যায় ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলামকে (৫০) হত্যা করে প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনের লোকজন। পনের দিনেও হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের বিরুদ্ধে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা শহরের প্রধান সড়ক চৌরঙ্গী মোড়ে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপী কয়েকশত মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নিহতের ছেলে মামলার বাদী সাজ্জাদ হোসেন, নিহত নজরুল ইসলামের ছোট ভাই পৌর ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আসাদ, ৭ নং পৌর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবনুর কবির বিপ্লব, সাবেক পাটগ্রাম পৌর যুবলীগের সভাপতি, লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ফিরদুজুল ইসলাম রোলেক্স প্রমূখ।
সমাবেশে থানা পুলিশের নিকট বক্তারা খুনের সঙ্গে জড়িত মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচী পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
ঊল্লেখ্য, সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে গত ৫ জুন সন্ধ্যায় মাংস ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ওরফে নজু প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, সালিস বৈঠক মনোপুত না হওয়ায় কাউন্সিলর রবিউলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলের বড় ভাই নজুর সঙ্গে প্রতিপক্ষের আনোয়ার হোসেনের (৩২) কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নজুর পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, ১৫ জনকে আসামি করে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পাটগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। আমরা সকলে আসামি ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা সংস্থার ডিবি ইন্সপেক্টর মো. মনছুর আলী সরকার জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে স্বাক্ষী প্রমাণের সামনেই খুন হয়েছে। এখন পুলিশের কাজ একটাই আসামি ধরা। আমরা আসামি গ্রেফতারের জন্য নানা প্রচেষ্টা করছি। বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
ইত্তেফাক/নূহু
