সাভারের বিরুলিয়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী ও যুবলীগ নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থাকা লাইসেন্সকৃত ৩টি শটগান জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাভার থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য সেলিম মন্ডল, বিরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ এবং ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী। বুধবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, সাভার থানা যুবলীগের সভাপতি সেলিম মন্ডলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মোল্লার রাজনৈতিক কোন্দল ও স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে যুবলীগ নেতা সেলিম মন্ডল সঙ্গে থাকা কয়েকজন সমর্থকদের নিয়ে তার বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাত ১০টার দিকে কালিয়াকৈর এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদ মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছুলে সেখানে অবস্থানরত সামাদ মোল্লার কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়।
এ সময় দু পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ফাঁকা গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যুবলীগ নেতা সেলিম মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদ মোল্লা ও তার সহযোগী ইদ্রিস আলীকে আটক করে।
আটকৃতদের কাছ থেকে তিনটি লাইসেন্সকৃত শটগান ও বেশ কিছু গুলি জব্দ করা হয়।
এদিকে গতকাল বুধবার সকালে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আটক তিনজনকে সমঝোতার মাধ্যমে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে যান। কিন্তু সাভার মডেল থানায় দফায় দফায় বৈঠক করার পরও কোন সমঝোতা না হওয়ায় এবং পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তা আর সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুপক্ষের কর্মী সমর্থকরা থানার সামনে ভিড় করলে সকাল থেকে সাভার মডেল থানায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জনসাধারণকে থানায় প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ।
সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান জানান, বিষয়টি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলেই ঘটেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, বিশৃঙ্খলা ও গোলাগুলির ঘটনায় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি ২টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়াও তাদের ব্যবহৃত লাইসেন্সকৃত তিনটি শটগান ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
