নড়াইল সদর উপজেলার সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামে বন্ধুকে গাছে বেঁধে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বান্ধবীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার ভূক্তভোগী মেয়েটি তিনজনের নামে সদর থানায় মামলা করেছে।
আসামিরা হলো, সদর থানার সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামের আজাদ মিনার ছেলে রফিকুল মিনা (৩০), হালিম মিনার ছেলে শাহজালাল মিনা (২৩) ও আজগর মিনার ছেলে মাসুম মিনা (২৫)। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নড়াইল সদরের ডাঙ্গাসিঙ্গীয়া গ্রামের মেয়েটিকে গণধর্ষণ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যশোর থেকে নড়াইলে আসছিলো অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে নড়াইলের হবখালী আদর্শ কলেজ এলাকায় অটোবাইক থেকে নেমে যায় তারা। রাত ৯টার দিকে মাসুমের দোকানের কাছে পৌঁছালে ৮/৯ জন লোক তাদের পথরোধ করে।
লোকগুলো তাদের স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে নেওয়ার কথা বলে হবখালী বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত রফিকুল মিনা, শাহজালাল মিনা ও মাসুম মিনা হবখালী কলেজ এলাকায় বন্ধুকে গাছে বেঁধে রেখে পাটক্ষেতে নিয়ে বান্ধবীকে গণধর্ষণ করে এবং বুক, মুখ ও হাতের বিভিন্ন অংশে জখম করে।
গণধর্ষণের পর আসামিরা হুমকি দেয় বিষয়টি কাউকে জানালে তাদের কাছে থাকা ভিডিও তারা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গণধর্ষণের পর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্ত যুবকেরা মেয়েটিকে ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায়।
রাত ১২টার দিকে মেয়েটির বন্ধু স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামে শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের নড়াইল সদর থানায় নিয়ে আসে।
ভূক্তভোগী মেয়েটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ব্রাহ্মণীনগর গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/নূহু
