আলমডাঙ্গার হাঁপানিয়া গ্রামের আদম ব্যাপারী মিয়াজানের খপ্পরে পড়ে একেবারে পথে বসতে হয়েছে একই গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ হাফিজুরের পরিবারকে। সৌদিতে হাফিজুর রহমানের ছেলে সবুজকে গুম করে রেখেই শান্ত হননি মিয়াজান। এই পরিবারটিকে একের পর এক মামলা ও মারধরের ঘটনায় গ্রামে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে অসহায় হাফিজুরকে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় মারপিট করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। হাফিজুর এখন হারদী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে মারপিটের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে আবারো মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাফিজুর রহমান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাফিজুর রহমান জানান, হাঁপনিয়া গ্রামের মিয়াজানের মেয়ের স্বামী গাংনীর হাড়াভাঙ্গার আজিজুল হকের ছেলে নাসির বিদেশে সৌদিতে পাঠানোর নাম করে পাঁচ লাখ টাকা নেন। সবুজকে সৌদিতে পাঠান ঠিকই কিন্ত বিক্রি ভিসায় পাঠান। সৌদিতে গিয়ে সবুজকে বিক্রি করে দেয়া হয়। যাওয়ার তিনমাস পরই সবুজকে গুম করে রাখা হয়।
এই সংবাদে দিশেহারা হয়ে পড়েন হাফিজুর। তিনি আদম ব্যাপারী নাসিরের শ্বশুর হাঁপানিয়া গ্রামের মিয়াজানের কাছে ছেলে ও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। মিয়াজান এই বিপদ কাটাতে গ্রামের আদম দালাল জাহাবক্সের ছেলে হালিম ও আসাদের দারস্থ হন।
তারা আওয়ামী লীগের এক নেতার পরামর্শে বোমা ফাঁটিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের মামলা করে দেয় বৃদ্ধ হাফিজুর ও তার ভাইয়ের নামে। এ মামলায় তাদেরকে জেলও খাটতে হয়। এরপর এই দালাল চক্র হাফিজুরের প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেদম পিটিয়ে আহত করেন। পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়া হাফিজুর আদম দালালদের নামে মামলা ঠুকে দেয়। সেই মামলা তুলে নিতে মঙ্গলবার হালিম, আসাদ, তরিকুল, মান্নান বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাফিজুরকে মারপিঠ করতে থাকে। মারতে মারতে পাশের তুষারের বাড়িতে আটকে রাখে। তুষার বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে হাফিজুরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর হাফিজুর জীবন বাঁচাতে গ্রামের রাজ্জাক মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে হাঁপানিয়া ক্যাম্পের পুলিশ রাজ্জাকের বাড়ি থেকে আহত হাফিজুরকে উদ্ধার করে। হাফিজুর এখন হারদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাতে থানায় মামলার প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
