সীতাকুণ্ডে লাভ বয় নামে খ্যাত বিভিন্ন ধর্মের নামে ১৩টি বিয়ে করা প্রতারক কনক চন্দ্র দাস ওরফে মোঃ কনক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় পুলিশ আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৬নং বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের নডালিয়াস্থ চারালকান্দি গ্রামের দশরত মহাজন বাড়ীর মৃত অমূল্য দাসের ছেলে কনক দাস নিজের নাম, পরিচয় ও ধর্ম গোপন করে এ পর্যন্ত ১৩টি বিয়ে করেছে। কনক ভূঁয়া আইডি কার্ডের মাধ্যমে কিছুদিন পরপর বাসস্থান পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক বিবাহের কাজ সম্পন্ন করে আসছে।
কিন্তু তার এই বিবাহ সিরিজের ভাঙ্গন শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে। সে তার নাম, ধর্ম গোপন করে মোঃ কনক হোসেন নাম ধারণ করে ৫নং ইউনিয়নস্থ আকিলপুর গ্রামের সাহিদা আক্তার নামে এক মুসলিম মহিলাকে বিবাহ করে। বিবাহের কিছুদিন পর সাহেদা বুঝতে পারে যে তার স্বামী একজন প্রতারক ও তার আসল নাম কনক চন্দ্র দাস এবং সে হিন্দু ধর্মের সনাতন ধর্মালম্বী। তখন সাহেদা আক্তার নিজে বাদী হয়ে কনকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৫২/১৮ইং।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সকলের টনক নড়ে। এরপর থেকে 'লাভ বয়' নামে খ্যাত প্রতারক কনকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হতে থাকে।
এদিকে তার ১ম স্ত্রী প্রীতি কনা দাস কনকের বিরুদ্ধে সিজেএম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে। উল্লেখ্য, প্রতারক কনকের বিরুদ্ধে ফেনী জেলাতে ২টি, বান্দরবন জেলা সিজেএম আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বাদীরা প্রত্যেকেই তার বিবাহিত স্ত্রী। প্রতারক কনকের বর্তমান ঠিকানায় বসবাসরত ৫ম স্ত্রী সন্ধ্যা রানী দাসও তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী আরো জানান, কনকের এ ধরনের লাস্পট্যজনক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে একাধিকবার গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়।
এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে থানার এস আই মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, তার ১ম স্ত্রীর দায়ের করা আদালতের সি আর মামলায় কনককে বাড়বকুণ্ড দক্ষিণ বাজার থেকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
