নারায়ণগঞ্জে পানির দাবিতে বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আপডেট : ২২ জুন ২০১৮, ২১:০৪
নারায়ণগঞ্জে পানির দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও পাম্প হাউজ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। পরে তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
 
পাঁচদিন ধরে পানি নেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরের দাসেরগাঁও, চৌরাপাড়া ও লক্ষণখোলা এলাকায়। পাম্প বিকল হওয়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ২৪ ও ২৫নং ওয়ার্ডে। খাবার পানিসহ দৈনন্দিন কাজে পানি পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
 
মঙ্গলবার দাসেরগাঁও পাম্প হাউসের বোরিং নষ্ট হয়ে যায়। এরপর পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক একটি নতুন পাম্প স্থাপনের কথা বললেও উৎপাদন কম হওয়ায় ওই পাম্প থেকে পানি সরবরাহ পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। ফলে এই প্রচণ্ড গরমে এলাকায় পানির জন্য হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। পানির সংগ্রহের জন্য এলাকাবাসীকে নানা জায়গায় ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। নতুন পাম্প স্থাপনের জন্য ওয়াসার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন পাম্প মেরামতে আসা ওয়াসার প্রকৌশলীরা।
 
এদিকে পানির দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও পাম্প হাউজ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি সরবরাহ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
 
অ্যাডভোকেট আল আমিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নূর হোসেন, সাংবাদিক আতাউর রহমান, বন্দর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির সোহেল, নাট্যপরিচালক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ বন্দর শাখার সম্পাদক আবদুল লতিফ রানা, জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতা জহিরুল ইসলাম শাওন, শাহজাহান মোল্লা, মনির হোসেন, আক্তার হোসেন, সাইদুর রহমান লিটন, ডালিম, দিনার, রাইসুল ইসলাম রিয়েল প্রমুখ।
 
এলাকাবাসী জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডের বন্দরের চৌরাপাড়া, লক্ষণখোলা ও দাসেরগাঁ এলাকার জনসাধারণ টিউবঅয়েলের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাবার পানি চাহিদা পূরণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি এই এলাকায় পানি সরবরাহের দায়িত্ব নেয় ঢাকা ওয়াসা। প্রায় ৫ বছর আগে দাসেরগাঁ এলাকায় স্থাপন করা হয় একটি পাম্প হাউস। মঙ্গলবার পাম্পটি বিকল হয়ে যায়। তখন থেকে পানি কষ্টে আছেন তারা। দিনভর বিভিন্ন জায়গা ছুটোছুটি করে তবেই শুধু খাবার পানিটুকু সংগ্রহ করছেন তারা।
 
ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ মডস জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মসিউর আলম বলেন, দাসেরগাঁ পাম্প হাউসের বোরিং নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানে নতুন একটি পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পাম্পের উৎপাদন কম। ওখানে আরেকটি পাম্প বসাতে হবে। এছাড়া উপায় নেই। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেছি। দেখি কর্তৃপক্ষ কি করে। তবে সময় লাগবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি