সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর শনিবার বিকালে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত নারীর স্বামী পলাতক রয়েছে। পুলিশের ধারণা স্বামীই ওই নারীকে হত্যা করে পালিয়েছে। নিহত নারীর নাম নাজমা আক্তার সানজিদা (৩১)। তিনি নরসিংদী সাটিরপাড়া এলাকার নাদিমের স্ত্রী।
জানা যায়, চলতি মাসের ১ তারিখে মো. নাদিম ও নাজমা দম্পতি সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী বাজার এলাকার আব্দুর রহিমের ঘর ভাড়া নেয়। গত বুধবার বাড়িতে গৃহবধূ নাজমাকে রান্না করতে দেখা যায়। এরপর থেকে তাদের ঘরে তলাবদ্ধ দেখা যায়। শুক্রবার রাত থেকে বাড়ির বাসিন্দারা তলাবদ্ধ একটি ঘর থেকে গন্ধ আসছে নিশ্চিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়।
শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ঘরের তালা ভেঙে মেঝেতে পড়ে থাকা এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে, অর্ধগলিত লাশের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরফুদ্দিনসহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ নিয়ে গত ১১ দিনে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ৪টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় লাশ আতংক বিরাজ করছে।
ঈদের ছুটির তৃতীয় দিন গত ১৮ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুর থেকে ৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার হয়। এর আগে ঈদের দিন শনিবার একই পুকুর থেকে ৬ মাস বয়সী আরও এক মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার হয়। এছাড়াও গত ১১জুন গোদনাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ডিএনডি খালে ভাসমান ড্রামের ভিতর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধাণো এ লাশগুলো একই পরিবারের মা ও মেয়ে এবং হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা।
লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসী আতংকের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানান, আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। আমরা এ তিনটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। তিনি এলাকাবাসকেে আতংকিত না হয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেন।
ইত্তেফাক/নূহু
