রংপুর বিভাগে গত বছর সড়ক দুঘর্টনায় নিহত ৫৬২

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৮, ১৬:০৬
অতিরিক্ত বোঝাই, লক্কর ঝক্কর ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও পরিবহন আইন না মেনে চলাচলায় যত্রতত্র দুঘর্টনার কবলে পরে প্রাণ হারাচ্ছে রংপুর বিভাগের মানুষ। এ কারণে গত বছর সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোট বড় প্রায় সাড়ে তিন হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা সরকারিভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৫৬২ জন। বে-সরকারিভাবে তা দ্বিগুণ হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।পঙ্গুত্ব বরণ করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন জন বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেও সরকারের হিসেবের খাতায় আসে নি।
 
অপরদিকে পাথরবাহী রুট হিসেবে পরিচিত হয়েছে রংপুর বিভাগের সড়ক ও মহাসড়কগুলো। প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে এই ওভারলোড যানবাহনগুলো চলাচল করলেও দেখার যেন কেউ নেই।
 
সর্বোচ্চ ওজনসীমা বিষয়ে রংপুর-ঢাকা  এবং দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড দেয়া আছে। সেখানে বলা আছে ২এক্সেল (৬ চাকা) ২২ টন, ৩ এক্সেল (১০চাকা) ৩০ টন এবং ৪ এক্সেল (২৪ চাকা) ৪০ টন লেখা আছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। এ কথাগুলো বলেন, রংপুর জেলার নিরাপদ সড়ক চাই এর  সাবেক প্রচার সম্পাদক জাহিনুর রহমান।
 
স্থানীয়রা জানান, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের দমদমা, সাতমাথা, মাহিগঞ্জ, নব্দীগঞ্জ, দর্শনা মোড়,    পার্কের মোড়, তাজহাট, আশরতপুর, পীরগঞ্জ, ধাপেরহাট, মিঠাপকুরের পায়রাবন্দ, শঠিবাড়ি, কাউনিয়াার মীরবাগ, বেইলি ব্রিজ, তিস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পার্শ্বে এবং দিনাজপুর ঢাকা মহসড়কের টার্মিনাল, মেডিকেল মোড়, সিও বাজার, হাজিরহাট, পাগলাপীর ও তারাগঞ্জ এলাকায় প্রায় হাফ কিলোমিটার পর পর মহাসড়কের পাশে সর্বোচ্চ ও ওজনসীমা বিষয়ে সাইনবোর্ড দেয়া আছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওভারলোডেড যানবাহন নিয়ে চলাচল করছেন চালকরা। 
 
সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন  রংপুর- ঢাকা মহাসড়ক ও দিনাজপুর -ঢাকা মহসড়ক দিয়ে ট্রাক ও  কাভার্ডভ্যানসহ হাজারো ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ৬ চাকার ২২টনের স্থলে ৩৫টন, ১০ চাকার ৩০ টনের স্থলে ৪৫ টন এবং ২৪ চাকার ৪০ টনের স্থলে ৫৫টন ওজনের পণ্য নিয়ে যাতয়াত করছে।
IMG0
রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত ওজন সীমার সাইনবোর্ড দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ওজন স্টেশন চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এ হক আকরাম বলেন, শুধু ট্রাক আর কাভার্ডভ্যান নয় অন্যান্য যানবাহন ওভারলোডেড পণ্য নিয়ে যাতায়াত করছে। আইনের যথাযথ প্রাযোগ হলে মহাসড়কে ওভারলোডেড যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের চলাচলকারী ট্রাক চালক লাজিম মিয়া বলেন, সড়ক বিভাগ থেকে  যে নির্দেশনা দেয়া আছে তাতে মালিকদের পোশায় না। তাই মালিকরা বেশি পণ্য গাড়িতে তোলে দেয়।
 
রংপুর হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রংপুর বিভাগের গাইবন্ধা, রংপুর, লালমরিহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্জগড় জেলায় গত বছর মহাসড়কে ছোট বড় প্রায় সাড়ে তিন হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে প্রায় ৫৬২ জনের। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এসব দুর্ঘটনার জন্য ওভার লোডেড গাড়িই অনেকাংশে দায়ী।
 
হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ধীরেন্দ্র চন্দ্র মহাপাত্র জানান, ওভারলোডেড গাড়িগুলো নিয়মিত ওয়ে স্কেলে ওজন পরিমাপ করা হয়। রংপুর বিআরটি এর অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস জানান, গাড়ি মালিকদের অসহযোগিতার কারণে মহাসড়কে ওভারলোডেড বন্ধ করা যাচ্ছে না। 
 
ইত্তেফাক/এমআই