খুলনা মহানগরী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ পৃথক দুটি স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (৩০) এক যুবকের হাত-পা বাধা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হোটেল ম্যানেজারসহ ২জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আড়ংঘাটা বাইপাস সড়কের বরইতলার একটি মাছের ঘের থেকে অজ্ঞাত আরেক ব্যক্তির (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়।
খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই টিপু সুলতান জানান, গত শনিবার এক যুবক ও এক যুবতী নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়স্থ হোটেল আজমল প্লাজার পঞ্চম তলার ৫০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। গতকাল সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। নিহত যুবকের দুই হাত ও দুই পা বাঁধা এবং মুখ ও পুরুষাঙ্গ আগুনে ঝলসানো অবস্থায় ছিল। তবে তার সঙ্গে থাকা যুবতীর কোন সন্ধান মেলেনি।
তিনি জানান, হোটেল রেজিস্ট্রারে তাদের কোনো নাম-ঠিকানা, তথ্য লিপিবদ্ধ নেই। এ কারণে হোটেলের মালিকের ছেলেসহ চারজনকে আটক করা হয়। তবে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ও হোটেল বয় আশফাককে রেখে বাকি দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরকীয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তিনি।
হোটেল সূত্র জানায়, ওই যুবক-যুবতী স্বল্প সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য হোটেলে উঠেছিল। যে কারণে তাদের নাম-ঠিকানা রাখা হয়নি। কিন্তু তারা আর দরোজা না খোলায় সন্দেহ দেখা দেয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে লাশটি উদ্ধার করে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ নগরীর আড়ংঘাটা বাইপাস সড়কের বরইতলার একটি মাছের ঘের থেকে পাওয়া অজ্ঞাত আরেক ব্যক্তির লাশের পরিচয় বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত জানা যায়নি।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রেজাউল করিম জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আড়ংঘাটা বাইপাস সড়কের বরইতলার একটি মাছের ঘের থেকে উক্ত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিহতের শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।
ওসি বলেন, তার কপালের মাঝ বরাবর ও দুই উরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উক্ত ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
