মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ঠ মৌসুমের প্রথম বন্যার তাণ্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে অন্তত ৫১ কিলোমিটার সড়ক। লোকালয় থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ভেসে উঠে সড়কের ক্ষতচিহ্ন।
বন্যার তাণ্ডবে গ্রামীণ জনপদের সড়কের দৈন্যদশার কারনে এবার জনগনের কাছে ঈদের আনন্দ একেবারে মাটি হয়ে যায়। বন্যার তাণ্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নিয়ন্ত্রণাধীন অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো। বর্তমানে এসব সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার ২৬ জুন ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতুর বর্তমান অবস্থা পরির্দশন করেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক, চকরিয়া পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এমআর মাহমুদ ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক বলেন, সেতুর এপ্রোচ অংশের মাটি সরে যাওয়ার কারনে বর্তমানে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকির মধ্যে। গতকাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে সেতুর এপ্রোচ অংশের মাটি ভরাটের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আজ থেকে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
সরজমিনে চকরিয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ইউনিয়নের প্রপার কাকারা থেকে মেনিবাজার পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম ছিদ্দিকী সড়ক, ছিকলঘাট –কৈয়ারবিল সড়ক, চিরিঙ্গা–বরইতলী– মগনামা সড়ক, চিরিঙ্গা –জনতা মার্কেট– বেতুয়াবাজার সড়ক, পৌরসভার আবদুল বারী পাড়া সড়কের অবস্থা বেশি করুণ।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, অন্তত পাঁচটি সড়ক একেবারে চলাচল অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরিত হিসেব অনুযায়ী উপজেলায় এলজিইডি এসব সড়কের প্রায় ৫১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে প্রায় ২২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনের উল্লেখ্য করেছেন।
চকরিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রণি সাহা বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপর আমরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরির্দশন করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা নির্ণয় করে উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলাচল উপযোগী করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে অর্থবরাদ্দ নিশ্চিত হলেও একযোগে সব স্থানে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক তথা গ্রামীণ অবকাঠামো দ্রুত সময়ে চলাচল উপযোগী করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, বন্যার পর ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামোগত পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব এলাকায় সড়কটি বেশি গুরুত্বপুর্ণ তা আগে মেরামতের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
