কলেজ ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হয়নি কেউ

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ১৫:৩৯

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র রুমান মোল্যাকে (১৯) গত শনিবার স্থানীয় কয়েক বখাটে তরুন পিটিয়ে হত্যা করেছে। এর একদিন পর রবিবার রাতে নিহতের পিতা আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করলেও ঘটনার পাঁচদিন পর এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাশে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ভাকলা স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া রুমানের বন্ধু সুমন বেপারীর ভাগনিকে কাটাখালী এলাকার রাসেল নামের এক তরুন প্রায় উত্ত্যক্ত করতো। সম্প্রতি রাসেল ওই স্কুল ছাত্রীকে অপহরনের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে সমুন ওই স্কুলছাত্রী তার ভাগনি হয় বলে গত ২৩ জুন শনিবার দুপুরের দিকে রাসেলকে মুঠোফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করে। এতে রাসেল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে স্থানীয় কাটাখালী বাজারে এসে স্বাক্ষাতে কথা বলতে বলে।

সমুন বন্ধু আকাশ ও ইমনকে সঙ্গে করে বিকেলের দিকে কাটাখালী বাজারে এলে রাসেল ও তার বন্ধু টিপুর নেতৃত্বে ৬/৭ জন তরুন তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এ সময় সুমন কৌশলে বিষয়টি মুঠোফোনে পাশের পাচুরিয়া এলাকার বন্ধু রুমান মোল্যাকে জানায়। রুমান পাচুরিয়া থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে কাটাখালী বাজারে হাজির হন।

রুমানের উপস্থিতি দেখে রাসেল ও তার সহযোগী বন্ধু টিপু আরো ক্ষিপ্ত হয়ে রুমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় টিপু পাশের দোকানে থাকা কাঠের চলা দিয়ে রুমানের মাথায় পেছন থেকে সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক এসময় রুমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রুমানের বন্ধু সুমন বেপারী (২০), ইমন গাজী (২০) ও আকাশ খান নামের তিন যুবক আহত হলেও সুমন ও ইমনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানা ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সকলে পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু