রাজধানীর ব্যস্ততম অংশ পুরান ঢাকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় বিশ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠে একাডেমিক ও প্রশাসনিক চারটি ভবনই অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাই যেকোনো দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকতা-কর্মচারীরা আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ না করেই। পুরনো ভবনগুলো আরো পুরনো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ সংস্কার অযোগ্য পুরনো এসব ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হলে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। আমরা তো জীবন হাতে নিয়েই এসব ভবনে উঠি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণে সুব্যবস্থা নেই। তবে আমাদের নতুন ক্যাম্পাসে সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল পদক্ষেপ নেবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিমত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ভবনই যেন মৃত্যুফাঁদ। প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, ভাষা শহীদ রফিক ভবন, কলাভবনসহ বেশকিছু ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল রয়েছে। কলাভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের চারটি ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ কোনো একাডেমিক ভবনেই অগ্নিনির্বাপণের সুব্যবস্থা নেই। সারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রয়েছে মাত্র ১১টি এবং সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। যার মধ্যে নতুন একাডেমিক ভবনে ৫টি, বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ৩টি এবং প্রশাসনিক ভবনে ৩টি সিলিন্ডার রয়েছে। কলা ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, রফিক ভবন, অবকাশ ভবনে কোনো সিলিন্ডার নেই। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভবনেই জরুরি বহির্গমন পথ নেই। কলা ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২টি ভবন এবং অবকাশ ভবন থেকে নামার জন্য রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। নতুন একাডেমিক ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে একাধিক সিঁড়ি থাকলেও সুবিশাল স্থাপনা হিসেবে তা অপ্রতুল।
একাডেমিক ভবনগুলোর মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছে নতুন একাডেমিক ভবন (নিউ বিল্ডিং)। নির্মিতব্য ১৪ তলা এই ভবনের ৯ম তলা পর্যন্ত চালু রয়েছে। ভবনটির নিচ তলায় ২টি, ২য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় ১টি করে ৩টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রয়েছে। সিলিন্ডারগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া বাকি ছয় ফ্লোরে কোনো ধরনের অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা নেই। ভবনটির জন্য তিনটি সিঁড়ি থাকলেও নির্মাণ কাজের অজুহাতে একটি সিঁড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উন্মুক্ত বাকি দুই সিঁড়ির মধ্যে একটি কোনো কোনো ফ্লোরে কলাপসিবল গেট দিয়ে আটকানো। যার ফলে শুধুমাত্র একটি সিঁড়ি দিয়ে সবার যাতায়াত করতে হয়। রেজিস্ট্রার দপ্তরের তৃতীয় শ্রেণীর এক কর্মচারী বলেন, ‘সবসময় ভয় কাজ করে ভবনের কখন কী হয় এ নিয়ে। কিছু করার নেই, যেহেতু চাকরি করি, তাই এ ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার চন্দ্র সাহা ইত্তেফাককে বলেন, বিজ্ঞান অনুষদের ভবনগুলোতে কিছুদিন আগে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে রঙ করা হয়েছে। এ দিয়ে কিছুদিন চলে যাবে। আমরা অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে লিখিত দিয়েছি। সে অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করব।
