ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর শাহপাড়ায় আব্দুল্লাহ ( ৪৫ ) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সাপে কামড়ের আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মানুষকে সাপে কামড়াচ্ছে বলে প্রচার পাচেছ। আর তারা ওঝার কাছে দৌঁড়াচ্ছে। ঝাড়ফুঁক করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে কেউ সাপ দেখেনি।
গত ২৩ জুন রাতে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়িতে ফিরে ঘুমান আব্দুল্লাহ। তিনি সাপের কামড়ে মারা গেছেন বলে গ্রামে প্রচার পায়। এরপর থেকে দিন ও রাতে মানুষকে সাপে কামড়াচ্ছে বলে গ্রামের লোকজন জানায়। মৃত আব্দুল্লাহর স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, তার স্বামী ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার পায়ে কিসে যেন কামড় দেয়। তিনি গুরুত্ব দেন না। রাত সাড়ে ৩টার দিকে শরীরে যন্ত্রণা শুরু করে। তাকে পাশের গ্রামের ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ওঝা কিছু করতে পারেন না।
সকালে আব্দুল্লাহকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘন্টা খানেক পর চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে সাপ দেখা যায়নি বলে রহিমা বেগম জানান। ঘটনার পর ওই পাড়ার লিয়াকত আলি, লিটন, মর্জিনা ও ফরিদাকে কথিত সাপে কামড় দেয়।
গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে আব্দুর রশিদ নামে একজনকে কামড় দেয়। সাপে কামড়ালে বাড়ির পাশের ওঝা কুলসুম বেগমের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ঝাঁড়ফুক করে বিষ নামিয়ে দেন। আর এ বিশ্বাসে সুস্থ হয়ে রোগীরা বাড়ি ফিরছে। কুলসুম বেগম বলেন, তিনি ৭ জনকে সুস্থ করেছেন। তিনি বলেন, এ আসল সাপ নয়, জিন সাপ। চোখে দেখা যায় না।
বৃহস্পতিবার সকালে খবর শুনে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ খোন্দকার মোঃ বাবর ওই গ্রামে যান। তিনি গ্রামবাসীদের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান। সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে নিয়ে ঝাঁড়ফুক না করে হাসপাতালে আনাতে বলেন।
এদিকে সাপের কামড় বন্ধ করতে সুতাপড়া দিয়েছেন মাগুরার এক হুজুর। সবাই হাতে সুতা বেঁধে রেখেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
