হালদা দূষণে সম্প্রতি ২০ প্রজাতির মাছ মারা গেছে

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৮, ১৮:৪৬
 
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ভয়াবহ দূষণে ২০ প্রজাতির মাছ মারা গেছে। দেশের একমাত্র রুই-কাতল-মৃগেল-কালিবাউশ মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র এবং নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের জন্য এই নদী যুগ যুগ ধরে বিখ্যাত। 
 
হালদায় দূষণে চারটি প্রধান মাছ ছাড়াও ৫/৬ কেজি ওজনের আইড়, আড়াই কেজি ওজনের বাউস, সেই সঙ্গে বড় চিংড়ি, চেউয়া, কুচিয়া, বুরগুনি ইত্যাদি মাছও নদীর বিভিন্ন স্থানে মরে ভেসে উঠে। 
 
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উপরোল্লিখিত তথ্য প্রদান করেন হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া। হালদা নদীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দূষণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে এবং নদীকে ভবিষ্যতে এই ধরনের দূষণ থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায় সেজন্য ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরার লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 
 
অধ্যাপক ড. কিবরিয়া ১১ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করে বলেন, এগুলো অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় হালদার মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই সুপারিশ শুধু চোখে দেখে নয়, বাস্তব কারণ নির্ণয় করে গবেষণার , মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়েছে। 
 
সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা সুপারিশগুলো হচ্ছে, হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট, অক্সিজেন থেকে কূলগাঁও পর্যন্ত শিল্প-কারখানায় বর্জ্য শোধনে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ) স্থাপনে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করা, এশিয়ান পেপার মিলসহ অন্য কারখানাগুলোকে ইটিপি ব্যবহারে বাধ্য করা, হাটহাজারীর নন্দীর হাটের ‘মরা ছড়া’ খালের বর্জ্য ডাম্পিং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ পোল্ট্রি খামারগুলোর দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনন্যা আবাসিক এলাকার ভরাট হয়ে যাওয়া বামনশাহী খাল পুনর্খনন করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা, কুয়াইশ খাল থেকে বিচ্ছিন্ন করা, অনন্যা আবাসিক এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসটিবি স্থাপন, শিকারপুর ও মাদার্শা এলাকার ছোট খাল ও ছড়াগুলো খনন করে পানি প্রবাহ বাধামুক্ত করা, হালদাকে পরিবেশগত বিপন্ন এলাকা (ইসিএ) ও ‘জাতীয় নদী’ ঘোষণা এবং হালদা নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের জন্য হালদা নদী কমিশন গঠন করা।   
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা শামসুল হক হায়দরী, সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজা মোজাম্মেল, আমিন মুন্না, ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন সওদাগর, আশু বড়ুয়া, দুলাল দাশ, শ্রীরাম জলদাস, চবি শিক্ষক আমেনা বেগম প্রমুখ। আরো বক্তব্য রাখেন হালদা নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, চ্যানেল আই চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান  চৌধুরী ফরিদ।
 
ইত্তেফাক/ইউবি