নুসরাত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ধর্ষণ বিরোধী রোড মার্চের ঘোষণা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৮

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সোনাগাজীর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সকল অপরাধীদের গ্রেফতার ও পুলিশের ভূমিকার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে এক নাগরিক অবস্থান পালন করে যৌন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী জোট। ওসি মোয়াজ্জেম ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে বাঁচাতে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ তত্পর বলেও সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়। সমাবেশ থেকেই রোড মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রগতিশীল আন্দোলন কর্মী আকরামুল হক বলেন, এক দুজন সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ প্রশাসনের বদনাম কখনো কাম্য নয়। তড়িত্ গতিতে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সোনিয়া আমিন প্রশাসনের ভেতরে থাকা ধর্ষক খুনিদের আশ্রয়দাতাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বিচারহীনতার রাষ্ট্র থেকে উত্তরণের জন্য আইনের শাসন সুনিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল যৌন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী জোটের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে সরকারকে নির্মোহ থেকে বিচার কাজ পরিচালনার তাগিদ দেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতের যে ঐক্য তার নিন্দা করেন তিনি।

যৌন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আহ্বায়ক শিবলী হাসান বলেন, পুলিশ বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করছে । পুলিশ প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় না আনলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। পুলিশের বিরুদ্ধে যেহেতু সরাসরি অভিযোগ তাই পুলিশের তদন্ত কখনো সেখানে গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। ফেনীর পুলিশ সুপার লিখিতভাবে অভিযুক্ত ওসির পক্ষ  কীভাবে নেন সেই প্রশ্ন তুলেন তিনি।

তিনি বলেন,  পুলিশের এ তদন্ত কতটুকু কার্যকরী  হবে সেই ব্যাপারে অনিশ্চিত, তাই  নুসরাত হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি। তিনি আরো বলেন, নারী নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা যখন পুলিশের কাছে যায় তখন তদন্ত কর্মকর্তা নিপীড়কের পক্ষ নেয় তাই বিচার পাওয়া দুরূহ হয়ে যায়। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ না ঘটাতে পারলে এই সমাজ বা দেশকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি ঢাকা থেকে সোনাগাজীতে খুব শিগগিরই রোড মার্চের ঘোষণা দেন এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ধর্ষণ বিরোধী এই রোড মার্চ ও র্যালি চলবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক গোষ্ঠী, নিজেরা করি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সফল নারী ব্যবসায়ী আইরিন রাব্বানী, সাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মী সানজিদা কাজী, টুটলি রহমান, কানিজ আলমাস, সোনিয়া পান্নি, জেরিন দেলোয়ার, নাশিদ কামাল, মুনমুন রহমান প্রমুখ।