নির্মাণের ২ মাসের মাথায় ধসে পড়ল দেয়াল

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৬

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকার নোয়াগাঁও-বেলতলী সড়কের নোয়াগাঁও রেল গেইটের পূর্ব অংশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের দুই মাস না যেতেই বৃহস্পতিবার অন্তত দুইশ মিটার ওয়াল ধসে খালে পড়েছে। প্রায় দশ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের গুণগত মান নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য কুসিকের প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ ও কুসিক ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান। কুসিক সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর উত্তর চর্থা নওয়াব বাড়ি চৌমুহনী এলাকা থেকে নোয়াগাঁও হয়ে নগরীর বেলতলী এলাকার ব্রিজ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তার পার্শ্বে দৃষ্টিনন্দন রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ পায় এমসিএইচএল এবং হক এন্টারপ্রাইজ নামের দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুই মাস আগে নোয়াগাঁও এলাকায় ওই ওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ালটি ধসে খালে পড়ে যায়।

রিটেইনিং ওয়ালটি ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকার শিক্ষক আবদুল মান্নান, ব্যবসায়ী শরীফুল ইসলাম, কৃষক আবু তাহেরসহ স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, রিটেইনিং ওয়ালটি বাহ্যিকভাবে সুন্দর দেখালেও অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হয়েছে। নোয়াগাঁও থেকে বেলতলী পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় এই রিটেইনিং ওয়ালের কোথাও বাঁকা ও ফাঁটল দেখা দিয়েছে।

কুসিকের  ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ তদারকি করেছে। তাই রিটেইনিং ওয়াল ধসে পড়ার কারণ উদঘাটনসহ পরবর্তী করণীয় নিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রকৌশলী আবু সায়েম ভুঁইয়া বলেন, ‘এমসিএইচএল এবং হক এন্টারপ্রাইজ নামের দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে। আমি ঢাকা আছি। বিষয়টি জেনেছি। ধসে পড়া স্থানটি দেড়শ ফুট হতে পারে। ওই এলাকার কাজটি পুরো কাজের একটি আলাদা অংশ। ধসে পড়া কাজের সঙ্গে পুরো কাজের গুণগত মানের তুলনা করা যাবে না। প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তবে কী কারণে ওয়ালটি ধসে পড়েছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিটেইর্নিং ওয়াল ধসে পড়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করেছেন। তাদের সাথে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কর্মকর্তারাও ছিলেন। ওই রাস্তা দিয়ে রেল লাইন নির্মাণের ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে ওয়ালটি ধসে পড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’