তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি, বিপদসীমা ছুঁইছুঁই

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৮, ১৯:০৩

ভারত বাংলাদেশের তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে পানি আসা ও ভারি বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীতে পানি গর্জে উঠেছে। নিম্ন অঞ্চলে নদীর পানি ঢুকছে। নীলফামারীর ডালিয়ার তিস্তা ব্যারেজ বাইশপুকুর পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ পয়েন্টে বর্তমানে বিদসীমা ৫২ দশমিক ৬০মিটার। নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়তে শুরু করেছে ধরলা নদীর পানি। বর্তমানে ধরলা নদীর পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা ধরলা ও তিস্তা নদী ছাড়াও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ধরলা ও তিস্তার পানি বাড়লেও গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি হ্রাস পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ভারতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা এ দুটি নদী ছাড়াও জেলার দুধকুমার নদের পানি বাড়তে থাকবে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও আশঙ্কার পর্যায়ে যায়নি উল্লেখ করে এই প্রকৌশলী জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা কম। ভারি বৃষ্টিপাত না হলে ৪৮ ঘণ্টা পর পানি আবারও হ্রাস পেতে থাকবে। তিনি আরও জানান, বিগত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো মেরামত করা হয়েছে। সেগুলো এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

তবে তিস্তা ও ধরলা নদীতে বন্যা আভাস দেখা দেয়ায় রংপুরের কাউনিয়া, গংগাচড়া, পীরগাছা উপজেলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, নীফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা এবং লালমনিরহাট জেলার তিস্তা চরবেষ্টিত গ্রামগুলোর বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানিয়েছে। ফলে তিস্তার চরের টেপাখাড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব ছাতনাই, নাউতারা, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, বালাপাড়া,শহীদবাগ, হারাগাছ, টেপা মধুপুর, তাম্বুল পুর, মরনেয়া, গোকুন্ডা, থেতরাই, বিদ্যান্দ,  নাজিম খাঁসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বসবাসরত পরিবারগুলো আতংকিত হয়ে পড়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, তার ইউনিয়নের ঝাড়সিংশ্বের এলাকায় বসবাসরত ৫শতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকছে। পরিবারগুলো নৌকায় নিরাপদ স্থানে আসার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির কারনে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি কপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা অববাহিকার জনপ্রতিনিধিরা জানায় তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি মানেই উজানে ভারী বৃদ্ধিপাত ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের জল কপাট খুলে দেয়াই প্রধান কারন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন পুর্বাভাস ও সর্তকীকেন্দ্র তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, রবিবার সকাল ৬টায় ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ বাইশপুকুর পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিন ঘন্টা পর সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে তিস্তার পানি আরো ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায় ও দুপুর ১২টায় আরও ১সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫২দশমিক ৫৬ মিটার দিয়ে প্রাবিহত হচ্ছে। এছাড়াও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যে কোন সময় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এ ছাড়া ২৪ ঘন্টায় বৃহত্তর রংপুরে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৯৯মিলিমিটার। সুত্র মতে তিস্তা অববাহিকা সহ বৃহত্তর রংপুর জেলা জুড়ে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, চরগ্রামের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম জানান আজ রবিবার সকাল হতে তিস্তা নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আমরা সর্তকাবস্থায় থেকে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জল কপাট খুলে রেখেছি।

ইত্তেফাক/নূহু