চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ৩ লক্ষাধিক বেড়েছে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৮, ২১:০৪
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেলেও এর সক্ষমতা সে অনুযায়ী বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এতে করে আমদানি ও রপ্তানিকারক যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে একইভাবে সর্বশেষ পর্যায়ে জনগণ তথ্য ভোক্তা সাধারণকে তার মূল্য দিতে হয়। 
 
চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ২৮ লাখ ৮ হাজার ৫৫৪টি। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে একই সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ ৩ হাজার ৪৭১টি। এতে দেখা যাচ্ছে গত এক বছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৮৩টি। ফলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে শতকরা ১২ দশমিক ১৯ ভাগ। 
 
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে। কিন্তু এর অবকাঠামো ও সক্ষমতা সে অনুপাতে বৃদ্ধি না পাওয়ায় বহির্নোঙরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের কাঁচামাল হিসেবে লোহার স্ক্র্যাপ, সিমেন্ট ক্লিংকার এবং পাথর আমদানি অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় বহির্নোঙরে জাহাজ জট লেগেই আছে। এ সকল পণ্যবাহী অনেক জাহাজকে মাসাধিককাল পর্যন্ত জেটিতে মাল খালাসের জন্য অপেক্ষা করার নজির রয়েছে। প্রতিদিন বন্দরের ট্রাফিক বিভাগে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ খোলা পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানো নিয়ে শিপিং এজেন্টরা তদ্বির করতে দেখা যায়। জাহাজ জেটিতে এনে পণ্য খালাস নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকের এজেন্সিশিপ পর্যন্ত হারাতে হয়েছে। অনেকে তাদের এজেন্সিশিপ টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্না দিতে দেখা যায়। 
 
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নির্দিষ্ট সংখ্যক জেটিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ব্যবহার করে জাহাজকে দ্রুত ছাড় করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বন্দরে নতুন নতুন অনেক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করায় এখনও মোটামুটি পণ্য খালাসে তেমন একটা বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে জেটি ও ইয়ার্ড বৃদ্ধির আগামী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে জাহাজ জটও কমে যাবে।   
 
চট্টগ্রাম বন্দরে ২০০৭ সালে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মাণের পর এ পর্যন্ত নতুন কোন টার্মিনাল বা জেটি নির্মিত না হওয়ায় আমদানি-রফতানির সঙ্গে বন্দর তাল মেলাতে পারছে না। তবে গত ২/৩ বছর ধরে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। যা আগামী দুই বছরের পূর্বে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সদরঘাট এলাকায় ৫টি জেটি বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর্যায়ে রয়েছে। এ সকল জেটিতে সিমেন্ট ক্লিংকার, লোহার স্ক্র্যাপ, পাথর, গমসহ খাদ্যশষ্য খালাসের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এ সকল জেটিতে বাল্ক পণ্যসমূহ খালাস করা হলে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিসমূহে চাপ কমে আসবে। তাতে করে বহির্নোঙরে জেটির অপেক্ষাকাল কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি