আড়াইহাজারে বোরো ধানে শীষব্লাস্ট রোগ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:২২

আড়াইহাজারের অনেক বোরোক্ষেত ক্ষতিকারক শীষব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধান। ফলে আড়াইহাজারে বোরো ধানের ফলন নির্ধারিত লক্ষমাত্রায় পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি স্কিমের কোনো না কোনো জমির বোরো ধানের শীষ  চিটা হয়ে সাদা হয়ে গেছে। যে জমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে তার পুরোটারই এক অবস্থা। কলাগাছিয়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম রানা জানান, আমি জমিতে ধান কাটতে গিয়ে দেখি সব ধান চিটা হয়ে গেছে।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়,  শীষব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। চারা অবস্থা থেকে ধান পাকার আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় এই রোগ দেখা দেয়।  এ রোগ এক জমিতে ঢুকে পড়লে সেটিকে আর বাঁচানোর কোনো উপায় নেই। তবে এ রোগ থেকে জমির ধানকে বাঁচানোর জন্য ধানের শিষ বের হবার আগেই ‘ট্রুপার’ নামক একটি ওষুধ জমিতে ছিটানোর জন্য প্রচারণা চালানো হয়েছিল। কৃষকেরা বিষয়টি তেমন গুরুত্বের সাথে নেননি। আর এ কারণেই ধান কেটে ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে কৃষকদেরকে এমন লোকসান গুণতে হচ্ছে।

আড়াইহাজার উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, দিনে খুব বেশি গরম এবং রাতে খুব বেশি ঠান্ডা- এরকম আবহাওয়ায় জমির ধান শীষব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, যে সব জমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেগুলোর জন্য এখন আর কিছুই করার নেই। তবে যে সব জমি এখনো আক্রান্ত হয়নি এবং ধানের শীষ বের হয়ে গেছে সেই জমিগুলোতে ট্রুপার নামক ওষুধ নির্দিষ্ট মাত্রায় স্প্রে করে দিলে নতুন করে সে জমির ধান এ রোগে আক্রান্ত হবে না।

তিনি আরো জানান,  এ বছর ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ হেক্টর বোরো জমিতে শীষব্লাস্টের আক্রমণ হয়েছে। এই রোগ থেকে ক্ষেত রক্ষায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।