গৌরনদীতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩৫
দৈনিক প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জহিরকে আইসিটি এ্যাক্ট ৫৭ (২) ধারায় থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রনীর চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার গৌরনদী থানার ওসি লিখিত অভিযোগটি জিডি করে নিয়মিত মামলা রুজু করতে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
 
জানা গেছে, স্থানীয় ছাত্রলীগের এক নেতা ও ইউপি সদস্য কর্তৃক স্কুলছাত্রী লালশার শিকার ও পরিবারকে হুমকি দেয়ার খবর এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পরে গৌরনদীতে কর্মরত অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ওই বাড়িতে যান। এছাড়া গত ২৯ জুন সকালে সাংবাদিক জহির ও সংবাদকর্মী বেল্লাল হোসেন ওই বাড়িতে গেলে স্কুলছাত্রীর বাবা ও মা তাদেরকে জানান এ ধরনের ঘটনার কোন সত্যতা নেই। এ কথা শুনে তিনি ফিরে আসেন এবং তিনি  কোন সংবাদ প্রকাশ করেননি। 
 
পরের দিন ইউপি সদস্যের প্রতিপক্ষ লোকজন বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপাক প্রচার করে এবং কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ওই স্কুলছাত্রী বাদী হয়ে প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহিরকে অভিযুক্ত করে শনিবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
 
বাদী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন সাংবাদিক জহির বাদিনীর বাড়িতে গিয়ে তার অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষীদের (স্কুলছাত্রীর বাবা ও মা) সঙ্গে কথা বলেন এবং কোন সত্যতা না পেয়ে ফিরে আসেন। তদুপরি সাংবাদিক জহির বিশেষ মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নিজের হলুদ সাংবাদিকতার ধারা অক্ষুন্ন রেখে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে মিথ্যা সংবাদ করে নিজের অনুগতদের দিয়ে ফেইসবুক ও পত্রিকায় প্রকাশ করায়।'
 
সাংবদিক জহির অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটির ভিকটিম ও তার পরিবার স্বীকার না করায় আমি কোন সংবাদ প্রকাশ করিনি। অথচ আমার বিরূদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি সময়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এক নেতার অনিয়ম, দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগের ওই নেতা ক্ষুব্ধ হন।  ওই নেতা আমাকে জব্দ ও হয়রানী করতে অনেক দিন যাবত চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের ওই নেতা স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রভাবিত করে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।
 
মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে সোমবার সকালে গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া গৌরনদী রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক বেল্লাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানান। 
 
এদিকে, লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে বাদী কথা বলতে রাজি হয়নি। বাদীর পিতাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
 
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আফজাল হোসেন বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগটি সাধারণ ডায়রীভূক্ত করে পুলিশ হেড-কোয়াটারের অনুমতি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু