রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী সোমবার (২ জুলাই) প্রার্থী যাচাই বাছাই শেষে হয়েছে। ১ জুলাই থেকে বাছাই শুরু হয়েছিল। দুই দিনে ১ মেয়র প্রার্থী এবং ৩ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রাসিক নির্বাচনে মোট প্রার্থী রইল ২২৩। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিরর পদে ৫২ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
সহকারি রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৮ জুন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬৯ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সির পদে ৫২ জন মিলে মোট ২২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এর মধ্যে গত রবিবার গণসংহতি আন্দোলনের রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তার মনোনয়নপত্র দাখিলের কাগজপত্রে সমর্থক হিসেবে যার নাম দেয়া হয়েছে তার স্বাক্ষরে মিল না থাকার অভিযোগে মুরাদ মোরশেদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিন সোমবার ইজারাদার ও ঠিকাদারসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। তারা ৩ জন সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে রাসিকের ইজারাদার মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জিল্লুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মহানগরীর ৩০নং ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় শহীদুল ইসলাম পিন্টু ও ঠিকাদারী করায় একই ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নাসিম হাসান লিমনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
এছাড়া রাসিক নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পদ প্রার্থীর ৫২ জনের মধ্যে সবার মনোনয়নপত্রই আজ বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
ফলে দুইদিনের যাচাই বাছাই শেষে ৫ মেয়র, ১৬৬ সাধারণ কাউন্সিলর ও ৫২ সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলিয়ে ২২৩ জন প্রার্থীকে নির্বাচনের জন্য বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
আগামী ৯ জুলাই প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এর পর ১০ জুলাই প্রতীক বরাদ্দ হবে। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৩০ জুলাই।
রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আজ শেষ দিনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই প্রার্থীতা প্রত্যাহার শেষে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এ জন্য তারা এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এর পর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামতে পারবেন। এ সময় থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আচরণবিধি মনিটরিং করা হবে। কেউ আচরণ বিধি ভাঙলে তাৎক্ষণিকভাবেই আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রিটার্নিং অফিসার জানান, রাসিকের ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ (পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ এবং নারী ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫) জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৭টি থেকে বেড়ে ১৩৮টি করা হয়েছে। বর্ধিত ভোট কেন্দ্র হচ্ছে অনন্যা শিশু শিক্ষালয়। এটি মহানগরীর ২৪নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত বলেও জানান রিটার্নিং অফিসার।
ইত্তেফাক/কেআই
