সোমবার রাত থেকে ভারি বর্ষণে রাঙ্গামাটির পাহাড়ের খাদে থাকা মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের রাঙ্গাপানি, মানিকছড়ি, সাপছড়ি, শিমুলতলীসহ বেশ কিছু জায়গায় পাহাড়ের মাটি ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে সকাল থেকে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষতির খবর পায়নি বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে ভারি বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে পানির উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি বৃষ্টির ফলে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের মগাছড়ি, ঠাণ্ডাছড়ি, রাউজান, ধামরাইহাট, পারুয়াসহ রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তায় পানি উঠে গেছে। যাত্রীদেরকে পায়ে হেটে ভেলায় চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, গতরাত থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙ্গামাটির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা রাঙ্গামাটির সর্বত্র মাইকিং করছি। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে। জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙ্গামাটির আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা আছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা নিজেদের মতো করে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য তিনি মাইকিংকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান জানান, বৃষ্টি বাড়লে আমাদের ভীতি বাড়তে শুরু করে। রাঙ্গামাটির পাহাড়ের মাটিগুলো খুবই নরম হয়ে গেছে। তবে সকাল থেকে আমরা বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি।
নানিয়ারচর সংবাদদাতা জানান, নানিয়ারচর উপজেলার পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, মহালছড়িতে গত রাত থেকে প্রবল বর্ষণ হওয়ায় চেঙ্গী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে নানিয়ারচরের নিম্নাঞ্চলও পানিবন্দী হয়ে পড়ছে।
ইত্তেফাক/এমআই
