চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ও দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট হয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার স্বর্ণ। বিমান ও বেনাপোল বন্দরের কড়াকড়ি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর ফলে পাচারকারীরা এ সীমান্ত এলাকাটি নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চুয়াডাঙ্গা বিজিবি এবং দর্শনা ও বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা দামুড়হুদা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গত ৪ মাসে ৯টি স্বর্ণের চালানসহ ৭ বহনকারীকে আটক করেছে। দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
বিজিবি জানায় গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে বিজিবির টহল গাড়ি দেখে স্বর্ণ চোরাকারবারীরা পালাতে গিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে লাফ দেয়। বিজিবি তাদের পিছু ধাওয়া করলে মালামাল ফেলে ভারত সীমান্তের দিকে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় বিজিবির টহল দল নদীর পাড় থেকে ৩৭ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। ২৭ এপ্রিল দামুডহুদার জয়রামপুর কাঠালতলা নামক স্থানে একটি পরিবহনে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের শাহিনকে ৭টি স্বর্ণের বার এবং ২ জুলাই উপজেলার অন্তর্গত লোকনাথ পুর নামক স্থানে ঢাকা-দর্শনাগামী নৈশ পরিবহনে অভিযান চালিয়ে যশোর শার্শা উপজেলার ইদরিশ আলিকে ৭টি স্বর্ণের বারসহ বিজিবি আটক করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ছবি রানী দত্ত সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা কাস্টমস চেকপোস্টের বেশ কয়েকজন পাসপোর্ট যাত্রীদের ব্যাগ, শরীর, জুতা তল্লাশি করে স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ৮শ ৯৭ গ্রামসহ একজন, ২৫ মে ১ কেজি স্বর্ণসহ একজন, ৭ জুন ২কেজি ২শ ৭৮ গ্রাম সোনার বিস্কুট আকৃতির বারসহ ২ জন, ৫ জুন ১কেজি ৩শ ২০ গ্রাম সোনার বারসহ ১ জন, ৮ জুন ৩শ ৭৪ গ্রাম সোনারবার সহ একজন এবং ২৯ জুন ১কেজি ৪শ ৯৫ গ্রাম সোনার বিস্কুট আকৃতির বারসহ ফরিদপুরের দেলোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা করাসহ মালামাল চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে। আটককৃতরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের সামনেই বলেছেন, আমরা বহনকারী। ঢাকা থেকে এই মালামাল দর্শনা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কলকাতা পৌঁছে দিতে পারলে প্রতি পিসে ৩ হাজার টাকা করে পাবো। কিন্তু বিধিবাম তা আর সম্ভব হলো না।
এ সব মামলার অগ্রগতি বিষয়ে দামুডহুদা মডেল থানার ওসি শুকুমার বিশ্বাস জানান, আমি মাত্র ১৫ দিন এ থানায় যোগদান করেছি, আমি আসার পর ২টি স্বর্ণের মামলা রুজু হয়েছে। তবে বহনকারীদের পাশাপাশি মালিকদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙা -৬ ব্যাটালিয়নের বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল ইমাম হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, বিজিবি সব ধরনের চোরাকারবারীকে মালামালসহ ধরে পুলিশের কাছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করে থাকে। তদন্ত বা পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে পুলিশ। ফলে মামলার অগ্রগতি তারাই ভালো বলতে পারবেন।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো মাহবুবর রহমান ইত্তেফাককে জানান, স্বর্ণ উদ্ধার বা স্বর্ণসহ আটক আসামিদের মামলা সবগুলোই জেলার ডিবি পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার একটি কার্যকর স্বর্ণ নীতিমালা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বর্ণ আমদানি জুয়েলারি সামগ্রী রপ্তানি এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচীবের নেতৃত্বে স্বর্ণ নীতিমালা খসড়া চূড়ান্তকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর হিসাব মতে গত ৯ বছরে শুল্ক বিভাগ ৪ হাজার ১৩০ কেজি স্বর্ণ আটক করে।
ইত্তেফাক/এমআই
