বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেছেন, শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের রূপকল্প ২০২১ এবং উন্নত দেশ রূপায়নে ২০৪১ সালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। দুর্নীতি না হলে আমাদের জিডিপি ২শতাংশ বাড়ত, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দ্রুত প্রবৃদ্ধি বিশ্বের প্রথম সারিতে অবস্থান পেত।
‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ও বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা: প্রেক্ষিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, সরকার বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েছেন। তারপরও দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন? আসলে এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চাকরিজীবী অনেকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আছে, সামর্থ্য আছে, প্রয়োজন নেই, তারপরও বিনা প্রয়োজনেও দুর্নীতি করছেন। এটা একটা রোগে পরিণত হয়েছে। এর থেকে উত্তরণে নীতি-নৈতিকতা চর্চা, শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সবক্ষেত্রে সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করতে পারলেই আমাদের দুর্নীতি বহুলাংশে কমানো সম্ভব। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দেশে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে শুদ্ধাচারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন খুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। বক্তৃতা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, খুবি ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, ইউজিসির পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম, খুবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।
কর্মশালার শুরুতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম ঘণ্টাব্যাপী পাওয়ার পয়েন্টে শুদ্ধাচার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। তার উপস্থাপনায় শুদ্ধাচার কী ও তার প্রয়োজনীয়তা, বর্তমান সরকারের উদ্যোগ, বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ, কলাকৌশল, আইন, বিধিবিধান, অভীষ্ট লক্ষ্য এবং বিশ্ব প্রেক্ষিত তুলে ধরা হয়।
