গত দুই দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তুমব্রু খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোনার পাড়া শূন্যরেখা রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। ফলে ক্যাম্পের ৬শ পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এ সব পরিবার নিকটস্থ উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিলেও তাদেরকে অভুক্ত অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন যাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকালে সরজমিনে কোনার পাড়া শূন্যরেখার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে তুমব্রু গিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানালেন, তুমব্রু বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত পানি উঠেছে। তাই শূন্যরেখায় যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সেখানে অপেক্ষমান শূন্যরেখা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি হলেও পানি উঠেনি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে গোটা আশ্রয় শিবির কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকার ঘরবাড়ি একেবারে ডুবে যাওয়ার কারণে সেখানে বসবাসরত প্রায় ৬শ পরিবারকে উদ্ধার করে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।
এ পারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা মাঝি শাহ আলম জানান, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের খাবার রান্না করার জন্য রোহিঙ্গা কর্মীরা আয়োজন শুরু করলেও কখন তারা দুমুঠো খেতে পারে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
রোহিঙ্গারা জানান, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে শূন্যরেখায় আশ্রিত প্রায় ১হাজার ২০ পরিবারের সাড়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে পোহাতে হবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। যেহেতু পেছনে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়ার সামনে তুমব্রু খালের অথৈ পানির মাঝখানে অনিরাপদ অবস্থায় এ সব রোহিঙ্গাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মিয়ানমার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান তুমব্রু শূন্যরেখা আশ্রয় শিবিরের একাংশ তলিয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের খাবার ও সার্বিক সেবাসমূহ প্রদান করার জন্য রেডক্রিসেন্ট সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহম্মদ বলেন, সকাল থেকে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় পানি বৃদ্ধি হয়ে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়। এখন পানি একটু একটু করে নামতে শুরু করেছে।
ইত্তেফাক/এমআই
