আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগেই তিন সিটি নির্বাচনে উত্তাপ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৮, ০১:১৮

বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগেই নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা  ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন। মেয়র প্রার্থীরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তীব্র সমালোচনা করছেন। আগামী ১০ জুলাই প্রতীক বরাদ্দ হবে। এরপর থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। তবে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে অনুষ্ঠেয় এই তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটারদের মধ্যেও বিরাজ করছে ভিন্নরকম আমেজ।

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস জানান, সিলেট সিটি নির্বাচন উপলক্ষে দুই রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে নেতাকর্মীরা উত্ফুল্ল হয়ে উঠেছেন। গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সমপাদক মাহবুবুল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিজয় নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমাদের শঙ্কার কোন কারণ নেই। গতবার দলে কিছু অনৈক্য ছিল। এবার আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের তাতীপাড়াস্থ বাসভবনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সভা করে দলীয় প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করতে আহ্বান জানান।

এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে শোকজ: আওয়ামী ও বিএনপি প্রার্থীরা পরসপরের বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের মহানগর আমির এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করেছে।

কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন: বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। কমিটির সদস্য সচিব মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। গতকাল সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তাদের এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এসময় শফিকুর  রহমান চৌধুরী বলেছেন, নৌকার পক্ষে সেন্টার পাহারা দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সাদিক আব্দুল্লাহ’র পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। গতকাল সাদিক আব্দুল্লাহ নগরীর কাশিপুর এলাকায় হযরত আবেদ আলী শাহ (রহ) এর মাজার জিয়ারত করেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার গতকাল তার বাসভবনে ১, ২, ৩, ৬, ৭, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদল কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি প্রতিদিন দফায় দফায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে কর্মী সভা করছেন।

অপরদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল মনোনীত প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তী পাড়া মহল্লায় গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব মঙ্গলবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে হেফাজতে ইসলামের সমর্থন নিয়ে বরিশালে আসলে নেতা-কর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে বর্তমানে টিকে থাকা ৬ মেয়র প্রার্থীর প্রচার-প্রচারনা ও কর্মী সভায় লক্ষ্য করা গেছে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি। মেয়র প্রার্থীরা নারী ভোটারদের টানতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সাংবাদিকদের কাছে ভোট নিয়ে বিএনপি প্রার্থী’র শংকা: গতকাল সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তার ইঙ্গিত দেবে। শুধু বিএনপি নয় এখন সাধারন মানুষও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না। তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন চায়।

আনিসুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী জানান, রাজশাহী সিটি নির্বাচনে এবার অনেকটায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিগত সময়ের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রভাব ফেলেছে তার নির্বাচনী প্রচারণায়। এদিকে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সব নেতাকর্মী এবার শুরু থেকেই নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় ভোটের মাঠে তুলনামূলক সুবিধায় রয়েছেন লিটন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্নস্থানে ক্ষমতাসীন দলে বিরোধ থাকলেও উল্টো চিত্র এবার রাজশাহীতে। লিটনকে প্রার্থী মেনেই কাজ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তারপরেও দলে কোনো পর্যায়ে যেন মান অভিমান না থাকে, সে জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন লিটন। এজন্য একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল বলেন, খায়রুজ্জামান লিটনের মতো নেতা যেমন রাজশাহীতে নেই, তেমনি তার মতো সেবকও নেই। ফলে তার কোনো বিকল্প রাজশাহীতে নেই। জেলা আওয়ামী লীগের নেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে সবার লক্ষ্য, শুধু লিটনকেই মেয়র নির্বাচিত করা।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমার সময়ে (২০০৮-২০১৩) রাজশাহীর যে উন্নয়ন হয়েছে, তা এখনো মানুষ মনে রেখেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল গতকাল দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেছেন, ভোট চুরির ইতিহাস আওয়ামী লীগের নাই, এ ইতিহাস বিএনপির। খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ভোট চুরির অভিযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা দুইজনের: মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোরশেদ ও  কাউন্সিলর প্রার্থী জিল্লুর রহমান।

ইত্তেফাক/নূহু