ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মালামাল ক্রয়ে অনিয়ম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৮, ০১:২২

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভাণ্ডার ও ক্রয় বিভাগে নিয়ম না মেনে মালামাল ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংস্থাটি দুই ক্যাটাগরিতে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকার মালামাল ক্রয় করেছে। সংস্থাটির ভাণ্ডার ও ক্রয় বিভাগের এ অনিয়মে আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অডিট অধিদফতর।  

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএসসিসি’র ভাণ্ডার ও ক্রয় বিভাগ সরকারি প্রিন্টিং প্রেস হতে মালামাল ক্রয় না করে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রেস হতে মালামাল করা হয়েছে। অপরদিকে সংস্থাটির একই বিভাগ সরকারি স্টেশনারি অফিস হতে মালামাল ক্রয় না করে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হতে স্টেশনারি মালামাল ক্রয় করেছে। এতে পর্যায়ক্রমে সংস্থাটির এক কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬২৭ টাকা এবং ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ১৮০ টাকা অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় অডিট অধিদফতরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের নিরীক্ষায় সংস্থাটির দুটি ক্যাটাগরির ক্রয়ে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

আইন অনুযায়ী সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সব ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানে উত্পাদিত দ্রব্য-সামগ্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয় করার নির্দেশনা আছে। ২০০০ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সভা ও একই বছরের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পাঠানো এক পত্রে এমন নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনায় আরো বলা আছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান যদি অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে অন্যত্র হতে ক্রয় করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে অপারগতা সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

যদিও মালামাল ক্রয় নিয়ে অডিট অধিদপ্তরের আপত্তির জবাব দিয়েছে ডিএসসিসি। সেখানে সংস্থাটি বলছে, সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মালামাল ক্রয় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপত্তা মুদ্রণালয়, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রকাশনা অধিদফতর থেকে অপারগতা প্রকাশ করায় ডিএসসিসির ভাণ্ডার ও ক্রয় বিভাগ পাবলিক প্রকিউমেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত ইজিপি দরপত্রের মাধ্যমে এসব দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করে। সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার জন্যও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একই জবাব দেয়া হয়েছে স্টেশনারির মালামাল ক্রয়ের আপত্তির ক্ষেত্রেও।

অডিট আপত্তির জবাবের সঙ্গে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের যে ‘অপারগতা’ সনদ সংযুক্ত করা হয়েছে তাতে সংস্থাটি জানিয়েছে-‘সিটি করপোরেশনের চাহিদাকৃত ৩ লাখ ৮১ হাজার নবায়নযোগ্য ট্রেড লাইসেন্স মুদ্রণ করতে ১৮/২৩ সাইজের ৮২২ রিম ৪৮০ শিট সিকিউরিটি পেপার এবং কভারের জন্য ২২/২৮ সাইজের ৩৯৬ রিম রিয়েল আর্ট কার্ড-এর প্রয়োজন হবে। বর্তমানে এ প্রেসে ওই কাগজ পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ না থাকায় তা মুদ্রণ-সরবরাহের লক্ষ্যে প্রাক্বলন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ডিএসসিসি হতে ওই সিকিউরিটি পেপার এবং রিয়েল আর্ট কার্ড সরবরাহ করা হলে তা দ্বারা চাহিদাকৃত নবায়নযোগ্য ট্রেড লাইসেন্স বই মুদ্রণ করে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ পরিমাণ পেপার সরবরাহ করার সম্মতি জ্ঞাপন করলে চাহিদাকৃত নবায়নযোগ্য ট্রেড লাইসেন্স বই মুদ্রণের লক্ষ্যে প্রাক্বলন প্রস্তুত করে প্রেরণ করা যেতে পারে।’ কিন্তু সিটি করপোরেশন সে পেপার সরবরাহ না করে এর বদলে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে ঠিকাদার দিয়ে মালামাল ক্রয় ও ছাপার কাজ সম্পন্ন করেছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা (পরিদর্শনও মান নিয়ন্ত্রণ) মো. লিয়াকত হোসেন জানান, বাংলাদেশ নিরাপত্তা মুদ্রণালয় আমাদেরকে একটা অপারগতা পত্র দিয়েছে এবং সে জন্যই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই আমরা প্রতিটি ক্রয় টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি। আমরা এটা অডিট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি।

ইত্তেফাক/নূহু