অবশেষে নেত্রকোনার জনগণের বহু আকাঙ্খিত মগড়া সেতুর নির্মাণ কাজ সর্বশেষ সময় দেওয়া চলতি বছরের গত জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেও শেষ হবে না বলে জানা গেছে। এছাড়া এ সেতুর নকশায়ও ত্রুটি রয়েছে বলে সুধিজনরা মনে করছেন।
এ সেতুর নির্মাণ গত বছর অর্থাত্ ২০১৭ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে গত বছর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। তাদেরকে চলতি বছর ৩১ মের মধ্যে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে সেতু জনগণের চলাচলের জন্য চালুর কথা থাকলেও তা ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে শেষ হতে সময় দেওয়া হয় জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু জুন মাস পার হলেও সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। সেতু নির্মিত না হওয়ায় শহরে যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এ সেতু ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ সারা দেশের সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।
১৯৬৫ সালে মগড়া নদীর উপর নির্মিত এ পাকা সেতুর পাটাতনের কয়েকস্থানে ফাটল দেখা দেয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জোড়াতালি দিয়ে সেতু সংস্কার করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার পাটাতনে ভাঙন দেখা দেয়। এ অবস্থায় জনগণের দাবির মুখে নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০১৫ সালে টেন্ডার আহ্বান করে এবং কার্যাদেশ দেয়। সেতু নির্মাণেরর জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু প্রথম বছর ঠিকাদার কাজ যথা সময়ে শুরু না করায় এবং পরের বছর (২০১৬) থেকে কাজ শুরু হলেও তা ছিল ঢিমেতালে। এদিকে বর্তমানে মগড়া নদীর উপর বিকল্প হিসাবে যে দুইটি বেইলি সেতু রয়েছে, সে সেতু দুটিও নড়বড়ে।
এদিকে সেতুর নকশা নিয়ে জনগণের মধ্যে এখন নানান কথা হচ্ছে। সেতুটি যে পরিমাণ উঁচু করার কথা ছিল তা হয়নি। বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে ছোট ধরনের কোন নৌকাও এর নিচ দিয়ে যেতে পারবে না বলে জানা গেছে। নেত্রকোনা শহরের মূল সড়কের চেয়েও সেতুটি নিচু হয়েছে বলে জনগণ অভিযোগ করেছেন।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, এ বছর জুনের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সেতুটি আগের উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান।
এদিকে ঠিকাদার হোসাইন মো. পান্না বলেন, ঈদ ও গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সেতুর কাজ পিছিয়ে যায়। তবে এ মাসেই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/নূহু
