রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদরুল আলমের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীর নাম সবুজ মিয়া (৯)। সে উপজেলার খালিশা হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সবুজ কানে প্রচণ্ড ব্যাথা ও জ্বর নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনায় ওই প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সবুজের বাবা ওবায়দুল হক বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ওই অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত সোমবার সবুজ মিয়া স্কুলে যায়। ওইদিন বিকেল তিনটার দিকে সবুজ ক্লাসে চলাফেরার সময় তার সহপাঠী নাসির হোসেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। নাসির পড়ে যায়। এতে নাসির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদরুল আলমের কাছ অভিযোগ করলে তিনি কোনো কিছু না শুনে অনেক শিক্ষার্থীদের সামনে সবুজের দুই গালে কয়েকটি সজোরে থাপ্পর মারেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতালে ভর্তিরত ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। পাশে বসে তার বাবা ওবায়দুল হক কাদঁছেন। ওবায়দুল হক সাংবাদিক দেখে বলেন, ‘বাবা মুই গরীব মানুষ। মানুষের বাড়িত কাজ-কাম করি খাও। হেড মাস্টার মোর ছইলের কানোত ও গালোত থাপর মারচে। ছইলের কান তালি নাগচে। ব্যাথায় গাল-কান ফুলে গেইচে। জ্বর আসচে। এখানকার (হাসপাতালের) ডাক্তার কানের পর্দা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য রংপুরে কানের ডাক্তার দেখাতে কওচে। কিন্তু মোরটে কোনো টাকা নাই। কিভাবে রংপুরোত ডাক্তার দেকাইম?। মুই হেড মাস্টারের শাস্তি দেখতে চাও।’
ওবায়দুল অভিযোগ করেন, তিনি মঙ্গলবার বিষয়টি জানার জন্য স্কুলে হেড মাস্টারের কাছে যান। কিন্তু তিনি তাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন এবং স্কুল থেকে বের করে মেন। গতকাল দুইজন শিক্ষার্থী বলে, ‘হেড স্যার সবুজকে খুব জোরে মারছে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সদরুল আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, ‘সবুজের বাম গাল ও কানে ফুলা জখম রয়েছে। তার কানের পর্দা ফেটেছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য কানের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারার অভিযোগ শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। দিলে বিষয়টি দেখা হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবাইলে কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/এমআই
