হত্যাকাণ্ডের সাত মাস পর প্রধান শিক্ষিকা বিলকিছ আরা বেগম (৫২) হত্যার মূল আসামি সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিকুলকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকাকে গত বছর ২০ ডিসেম্বর তাকে নিজ বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ৩ জুলাই ক্লুলেস এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনসহ মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে পবিআইয়ের রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পীরগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস আরা বেগম তার বাড়ীতে স্বামীসহ বসবাস করতেন। আসামি সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিকুল বিলকিস বেগমের বাড়িতে দুইবার চুরি করে। একবার সে হাতেনাতে ধরা পড়ে ৪ মাস হাজত বাস করে।
সেই ক্ষোভে ঘটনার ৩ দিন আগে সে সহ তার চার সহযোগী পুনরায় বিলকিছ আরার বাড়িতে চুরি করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২০ ডিসেম্বর তারা বিলকিছ আরার বাড়ির বাগানে ওৎ পেতে থেকে। তার স্বামী এশার নামাজের জন্য মসজিদে গেলে আসামি সিদ্দিকুলসহ তার দুই সহযোগী বিলকিস আরার বাড়ির ছাদঘেঁষা কাঠাল গাছ দিয়ে ছাদের ওপর উঠে সিড়ি বেয়ে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে।
তার অপর দুই সহযোগী বাথরুমের ছাদের ফাকা অংশ দিয়ে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে। তারপর তারা আলমারী ভেঙ্গে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রধান শিক্ষিকা তাদের চিনতে পারলে তাকে শ্বাসরোধ করে ও ঘাড় মটকিয়ে হত্যা করে মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রথমে একটি ইউডি মামলা করা হয়।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ভিকটিম সরকারী প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হওয়ায় মামলাটি খুবেই গুরুত্বপূর্ন ছিল। সূষ্ঠু তদন্তের জন্য টিম গঠন করা হয়। মামলার মুল রহস্য উৎঘাটনসহ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মুল আসামি গ্রেফতার হওয়ায় ও রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবু হাসান কবির জানান, মূল হোতা আসামি সিদ্দিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ইত্তেফাক/নূহু
