বানারীপাড়ায় একের পর এক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের মিছিলে এবার শামিল হয়েছে মীম আক্তার (১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রীর নাম। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাখার ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামে তার মামাবাড়ি সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাগানের কাঁঠাল গাছে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় মীম আক্তার তার মামা বাড়ির পার্শ্ববর্তী পারভেজ হোসেনের কোচিং সেন্টারে পড়তে যায়। রাত ৮ টার সময় তার শরীর খারাপ বলে শিক্ষকের কাছ থেকে ছুঁটি নিয়ে মামার বাড়ি আসতে পথিমধ্যে নিখোঁজ হয়।
ওই কোচিং সেন্টারে ওই সময় মীমের মামাতো ভাই চাখার ফজলুল হক ইনষ্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্রও পড়ছিল। প্রশ্ন উঠেছে মীমের যদি শরীর খারাপ হবে তবে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময শিক্ষক পারভেজ কেন তার সঙ্গে মামাতো ভাইকে পাঠালেন না?
এদিকে মীমের মামীর ধারণা মীমের ওপর জীনের আছর আছে বলে সে আত্মহত্যা করেছে। এদিকে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক পারভেজ মীমের নিখোঁজের রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন।
এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক পারভেজের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান মীমের লাশ উদ্ধারের খবর জেনে বাড়িতে ফিরে আসছেন। অপরদিকে চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তার বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটির শিক্ষক মোঃ দুলাল হোসেন এবং তার সহপাঠীরা জানান, তারা মীমের চলাফেরায় কোন অসংলগ্নতা দেখতে পাননি।
দুলাল হোসেন আরও জানান, মীম মঙ্গলবারও স্কুলের অর্ধ-বার্ষিক বাংলা পরীক্ষা দিয়েছে।
পুলিশ মীমের লাশ উদ্ধার করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, মীম মামা বাড়ি চাখারের আশুরাইলে থেকে লেখাপড়া করতো।
এ প্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) ফারুক খান জানান, লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেয়ে এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ৭ দিনের ব্যবধানে ১৬ জুন উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের দিদিহার গ্রামে ফাতেমা (৩৪) নামের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধু ও ১৭ জুন রাতে উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম লবনসাড়া গ্রাম থেকে সৈয়দ সজিব (২২) নামের এক যুবকের ও ২২ জুন উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সুশান্ত বিক্রম (১৯) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই তিন জনের পরিবারের দাবি সুপরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এদিকে বানারীপাড়ায় একের পর এক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনা ও শিশু ধর্ষনের ফলে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
