সাঘাটায় ছাত্রলীগের হামলায় যুবলীগ কর্মী নিহত

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৮, ১৫:৫৪
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রলীগের হামলায় যুবলীগ কর্মী মুকুল মিয়া (২৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর চার যুবলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ যুবলীগ কর্মীরা বোনারপাড়ার ফুটানির বাজারস্থ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া রেলস্টেশন চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।
 
নিহত মুকুল মিয়া বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাউর গ্রামের মোজাম মিয়ার ছেলে ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের কর্মী। আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
 
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া সমর্থিত সাঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে একই গ্রুপের (ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া সমর্থিত) যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় যুবলীগের দুইকর্মী আহত হয়।
 
পরবর্তীতে সন্ধ্যায় যুবলীগ কর্মী মুকুল মিয়া বোনারপাড়া রেল স্টেশনের ওভার ব্রিজের নিচে এক চায়ের দোকানে বসে চা পানের সময় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুল ইসলাম দলবল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে মুকুলসহ আরো দুই যুবলীগ কর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে মুকুলকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোণিা করেন। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। লাশ গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
 
এদিকে এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ যুবলীগ কর্মীরা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুল ইসলামের বোনারপাড়ার ফুটানির বাজারস্থ বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সাভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   
 
বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এস আই) সালেক আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
 
সাঘাটা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিমুলতাইড় ও ফুটানির বাজার এই দুই পাড়ার মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে এই ঘটনার সুত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তা পূর্বের জের ধরে আধিপত্য বিস্তারে রূপ নেয়। 
 
তিনি আরো জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। 
 
সাঘাটা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিরুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। কয়েকবার চেষ্টার পর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
 
প্রসঙ্গত সাঘাটা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলো দুইভাগে বিভক্ত। একটি গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সাংসদ ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া সমর্থিত এবং আরেকটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন সমর্থিত।
 
ইত্তেফাক/নূহু