রামেক হাসপাতালে ফেরার আকুতি আহত তরিকুলের

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৮, ১৮:১৩
বেসরকারী ‘রয়েল হাসপাতালে’ চিকিৎসাধীন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা তরিকুল ইসলাম তারেক ফের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ফিরতে চান। অস্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারায় পুনরায় রামেক হাসপাতালে ফিরতে চান তিনি। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ওই হাসপাতালের ৬১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নং বেডে চিকিৎসাধীন তারিকুল ইসলাম তারেক উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। 
 
তারেক বলেন, 'বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন আমাকে রামেক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়, তখন আমার পাশে কোনো সহপাঠী ছিল না। আমি চিকিৎসককে বলি, আমার শারীরিক অবস্থা এখনো ভাল নয়। আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাই আমাকে আরো কিছুদিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা দিন। কিন্তু তারা (চিকিৎসক) আমার কোনো কথা শুনলেন না, তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দিয়ে দিলেন।’ 
 
পরে সহপাঠীদের খবর দেওয়া হলে তারা হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু চিকিৎসক তাদের বলেন, এখন আর কোনো সমস্যা নেই। ১৫ দিন পর আসতে হবে। কোন সমস্যা হলে তখন দেখা যাবে। তিনি পুনরায় রামেক হাসপাতালে ফিরে চিকিৎসা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো নড়াচড়া করতে পারছি না। তাহলে কিভাবে আমি সুস্থ হলাম?’
 
তারেকের সহপাঠী মঞ্জুরুল আলম বলেন, রামেক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে চিকিৎসককে বললে তারা বলেন, ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করার নেই। পুলিশের হাতে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হবে। এরপর পুলিশের মাধ্যমে ছাড়পত্র হাতে পেয়ে তারেককে বেসরকারী রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
 
তারেকের একমাত্র ছোট বোন ফাতেমা বলেন, আমাদের বাবা মো. খোরশেদ আলম একজন সামান্য কৃষক। আমাদের পরিবারে আর্থিক সমস্যা রয়েছে। আমরা তিন ভাই-বোন সকলেই লেখাপড়া করি। বেসরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। 
 
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেয়া হলেও আজ শুক্রবার বেসরকারী এ হামপাতাল থেকে বিভিন্ন ধরণের ৭টি পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে ভাইয়া কিভাবে সুস্থ হলেন? কি অপরাধে ভাইয়াকে হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি ছাড়পত্র দেওয়া হলো তা বুঝতে পারছি না। খুব কম সময়ের মধ্যে যাতে ভাইয়াকে আবারো হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে ভালোভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় সেই দাবি জানাচ্ছি।
 
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই বিকেলে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকার মহাসড়কে পতাকা মিছিলের সময় তাকে একা পেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তরিকুল ইসলাম তারেকের একটি পা ভেঙ্গে দেয় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা তরিকুল নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বেসরকারী রয়েল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
 
বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবার তরিকুল অনেকটাই সুস্থ বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করা তার সহোদর ফাতেমা খাতুন।  
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেকের সহোদর তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র তাদের হাতে না দিয়ে পুলিশের হাতে দেওয়া হয়েছে। এরপর পুলিশ তাদের কাছে ছাড়পত্র দিয়ে বলেছে, প্রয়োজন হলে তারেককে আবারও হাসপাতালে এনে চিকিৎসার দেওয়া হবে। 
 
এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা তাকে (পরিচালক) জানিয়েছেন, এখন আর তরিকুলের কোনো সমস্যা নেই। 
 
তরিকুল বর্তমানে বেসরকারী ক্লিনিকে ভর্তি আছেন। তার অবস্থা এখনো ভাল নয় এবং তরিকুল ফের রামেক হাসপাতালে ফিরে চিকিৎসা নিতে চান, এমন কথা জানালে পরিচালক বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি শনিবার বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রয়োজন হলে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎনার ব্যবস্থা করা হবে। 
 
তারেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সুন্দরখোল গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের (বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের) যুগ্ম আহ্বায়ক বলে পুলিশ ও আন্দোলনকারী সূত্রে জানা যায়।
 
ইত্তেফাক/নূহু