রংপুর মহানগরীর বে-সরকারী আধুনিক হাসপাতালে ভুল অস্ত্রপচার ও ভুল চিকিৎসার ফলে এক গৃহবধুর মৃত্যুর হয়েছে। কোতয়ালি থানার পুলিশ ২০ ঘন্টা পর রবিবার বেলা ৩টায় লাশ উদ্ধার ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে নগরীর বুড়িরহাট রোডস্থ ধাপ সাগর পাড়ায় রংপুর আধুনিক হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ঘটনার পর লাশ রেখে পালিয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, নিহত নারী জেলার কাউনিয়া উপজেলার বেইলি ব্রিজ এলাকার মনু মিয়ার স্ত্রী মৃত্যু নাসিমা বেগম (৩০)। মনু মিয়া ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। টিউমার অপারেশনের জন্য নাসিমাকে তার স্বজনরা বৃহস্পতিবার বিকালে এই হাসাপাতালে ভর্তি করান। সে রাতে তার অপারেশন হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শনিবার দুপুর ২টায় দুই ব্যাগ রক্ত দেয় নাসিমার শরীরে। এর কিছুক্ষণ পর থেকে তার খিচুনি শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডাকাডাকি করলেও কেউ আসে নাই। পরে বিকালে দিকে তার মৃত্যু হয়।
রংপুর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, রংপুর আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের কোনো লাইসেন্স নেই। সমিতির তালিকাভুক্তও নয়। হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনকে একাধিকবার বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (মালিক) ফারুক, সাজ্জাদ হোসেন শামীম, আজিজ ও খোকনসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া জায়নি।
১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহমুদুর রহমান টিটু জানান, আমি বিষয়টি কিছুই জানতাম না এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আমাকে কিছুই জানায়নি। আজ সকালে স্থানীয় ছাত্রলীগের কিছু নেতা আমাকে বিষয়টি জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হই। পরে বেলা ৩টায় রংপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছেন।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া বলেন, রাতে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ম্যানেজার, নার্স, আয়া ও ওয়ার্ড বয় কারো দেখা পায়নি। কি কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ সকল প্রকার তথ্য সংগ্রহ করছে।
ইত্তেফাক/নূহু
