নওগাঁর ধামইরহাটে ছুরিকাঘাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মশিউর রহমান বাবু (৪৮) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এঘটনায় রাজা বাবু (২২) নামের এক যুবকসহ তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। রাজাশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
মশিউর রহমান উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের আড়ানগর গ্রামের দক্ষিনপাড়ার আলহাজ্ব ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। আটক রাজা বাবু একই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আড়ানগর গ্রামের স্কুল গেটের সামনে এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মশিউর রহমান বাবু আড়ানগর বাজারে স্কুল গেটের পাশে পেয়ারা কিনছিলেন। এসময় পেছনের দিক থেকে এসে রাজা বাবু এলোপাতাড়ি ভাবে মশিউর রহমানকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধামরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে রাজা বাবু এলাকায় একজন মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীদের সঙ্গে ঝামেলা ও বিভিন্ন অন্যায় কাজ করে থাকে বলে জানা গেছে।
আড়ানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী (কমল) বলেন, কিছুদিন আগে আড়ানগর গ্রামের ইউসুফ আলী নামে এক ব্যক্তির জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাম সালিস হয়। সালিসে মশিউর রহমান বাবুসহ কয়েকজন ইউপি মেম্বারও ছিলেন। তবে মশিউর রহমান বাবুকে সালিসের প্রধান দায়িত্ব দেয়া হয়। বিচারের রায় ইউসুফ আলীর বিপক্ষে যায়। সে সূত্র ধরে ইউসুফ আলী ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করে মাদকসেবীদের নিয়ে মশিউর রহমানকে পিটিয়ে নিয়েছে। আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) সানোয়ার হোসেন বলেন, সোমবার বিকেলে সংবাদ পেয়ে এলাকা থেকে ঘটনার মূলক হোতা রাজা বাবুসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় থানায় মামলা ও নিহতের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।
ইত্তেফাক/কেকে
